kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

হবিগঞ্জে দুই বিএনপি নেতার সমর্থকদের সংঘর্ষ

সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ১০ পুলিশ আহত

মাদারীপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৪

হবিগঞ্জ ও মাদারীপুর প্রতিনিধি   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হবিগঞ্জের মাধবপুরে দুই বিএনপি নেতার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া মাদারীপুর জেলা সদরের কলেজ রোড এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে চারজন আহত হয়েছে।

হবিগঞ্জের মাধবপুরের বেজুড়া গ্রামে দুই বিএনপি নেতার লোকজনের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে মাধবপুর থানার ওসিসহ ১০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রবিবার দুপুরে ৮০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

রবিবার বিকেলে পুলিশ এক ইউপি সদস্যসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে হবিগঞ্জ কারাগারে পাঠিয়েছে। তাঁরা হলেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আরজু মিয়া, বিএনপি নেতা ব্যবসায়ী মহিবউল্লা ও যুবদল নেতা জসিম উদ্দিন।

রবিবার বেজুড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

মাধবপুর থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক এ বিষয়ে জানান, শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আরজু মিয়া ও যুবদল সভাপতি এনায়েত উল্লার মধ্যে গ্রামের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের সমর্থকরা দেশি অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ সংঘর্ষ থামাতে গেলে ওসি আব্দুর রাজ্জাক, এসআই রাজিব রায়, এসআই মনিরুল হক মুন্সি, এসআই তরিকুল ইসলাম, এএসআই জাহাঙ্গীর, পাঁচ কনস্টেবলসহ ১০ পুলিশ সদস্য আহত হন।

এদিকে মাদারীপুর জেলা সদরের কলেজ রোড এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে চারজন আহত হয়েছে। এ সময় তিনটি দোকানঘরেও ভাঙচুর চালানো হয়। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়াধাওয়ি শুরু হয়।

সংঘর্ষে আহত চারজন মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। তারা হলো পারভেজ শিকদার (১৮), রিয়াজুল শরীফ (২০), গোলাম রাব্বী (১৮) ও হৃদয় ব্যাপারী (১৬)। তারা সবাই শহরের হরিকুমারিয়া ও কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে শহরের হরিকুমারিয়া এলাকার হাসিব শিকদারের সঙ্গে কলেজ রোড এলাকার রিশাদ শরীফের আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। তা থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। রবিবার সকাল ১০টার দিকে দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হাসিবের লোকজন রিশাদ শরীফকে ধাওয়া করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই রিশাদ তাঁর লোকজন নিয়ে হাসিবদের ধাওয়া করতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে উভয় পক্ষের ধাওয়াধাওয়িতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজনই দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় তিনটি দোকানঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে সদর থানার পুলিশ।

এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি মো. মনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, আধিপত্য নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়াধাওয়ি হয়েছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করার আগেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিয়ন্ত্রণে আনে। ফের সংঘর্ষ এড়াতে কলেজের ভেতরে ও বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা