kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

পরিষদের জমি বিক্রি চেয়ারম্যানের

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১৯ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরিষদের জমি বিক্রি চেয়ারম্যানের

রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) জমি বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে চেয়ারম্যান বজলে রেজভি আল হাসান মঞ্জিলের বিরুদ্ধে। ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়। এ নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ তদন্ত করলেও সেই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ৫ জুলাই হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের অর্থে স্থানীয় সাত্তারের কাছ থেকে ৫১ শতাংশ জমি কেনা হয়।

বিজ্ঞাপন

ওই জমির ওপর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর। নিয়ম অনুযায়ী, পরিষদের নামে পক্ষে সচিব মালিক হবেন। কিন্তু চেয়ারম্যান বজলে রেজভি আল হাসান মঞ্জিল তাঁর নামে জায়গাটি কেনেন। এরপর নামজারি করে ২০১০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ওই জমির ১৮ শতাংশ শরিফুল ইসলামসহ কয়েকজনের কাছে বিক্রি করেন। পরিষদের সাধারণ সভায় অনুমতি নিয়ে চেয়ারম্যান নামমাত্র মূল্য দেখিয়ে (এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা) বিক্রি করেন। অথচ ওই জমির বাজারমূল্য অন্তত ৫০ লাখ টাকা। জমিটি ২০০৭ সালে যখন ইউনিয়ন পরিষদের অর্থে কেনা হয়, তখন ৫১ শতাংশের দলিলমূল্য দেখানো হয় ছয় লাখ ২০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে ২০১০ সালে তিন বছর পর বিক্রি করতে গিয়ে অর্ধেক মূল্য দেখানো হয়। আর বাকি টাকা নিয়ে চেয়ারম্যান আত্মসাৎ করেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা আবু তাহের ২০১৯ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। এর এক বছর পর বিষয়টি তদন্ত করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। কিন্তু গত দেড় বছরে সেই তদন্তের প্রতিবেদন বা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, চেয়ারম্যান বজলে রেজভি আল হাসান মঞ্জিল পরাজিত হয়ে পাঁচ বছর ছিলেন না। এরপর তিনি আবারও নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে ক্ষমতায়। তিনি আবারও নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে সালিসে এক যুবককে হত্যার অভিযোগে মামলা করা হয়। পরিষদের ভবন থেকে ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর চেয়ারম্যান কিছুদিন এলাকাছাড়া ছিলেন। পরে এলাকায় এসেছেন।

আবু তাহের অভিযোগ করে বলেন, ‘চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার কারণে আমাকে উল্টো মাদকের মামলা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে রক্ষা পাই।

আবু তাহের আরো অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এসব নিয়ে তিনি জেলা প্রশাসকের দপ্তরে অভিযোগ করেছেন। সে অভিযোগেরও কোনো মূল্যায়ন হয়নি। এ ছাড়া স্থানীয় হাফিজিয়া ফোরকানিয়া মাদরাসার প্রায় ২৪ বিঘা জমি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে মাদরাসার সভাপতি আবু বাক্কার সিদ্দিক বলেন, ‘কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিছু জমি বিক্রি করা হয়েছে। ’

অন্যদিকে চেয়ারম্যান বজলে রেজভি আল হাসান মঞ্জিল বলেন, ‘পরিষদের স্বার্থে জমিটি বিক্রি করা হয়। পরিষদের সাধারণ সভার সিদ্ধান্তে বিক্রি করা হয়েছে। আমি কোনো অনিয়ম করিনি। তবে দলিলে কম মূল্য লেখা হয়েছে। ’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কিছু প্রকল্পের বিষয়ে অভিযোগ করা হলেও সেগুলো সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে কোনো অনিয়মের সত্যতা পাননি তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। আর মাদরাসার জমি বিক্রির সঙ্গেও আমি সম্পৃক্ত নই। ’

 



সাতদিনের সেরা