kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

তাঁরই প্রেরণায় এগিয়ে চলেছি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তাঁরই প্রেরণায় এগিয়ে চলেছি

পুরাণ ও ইতিহাসের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। ইতিহাস হলো নিরেট তথ্যনির্ভর বর্ণনা। তবে নিজস্ব সূত্রের বাইরে গিয়ে কখনো কখনো হাজার বছরের পুরনো কিংবদন্তি থেকেও এক ধরনের ইতিহাস সৃষ্টি হতে পারে। দীর্ঘ লোকপরম্পরায় প্রচলিত যে কাহিনিতে ইতিহাসের তথ্য আমরা উপলব্ধি করতে পারি তা-ই পুরাণ।

বিজ্ঞাপন

আবার ইতিহাসের সত্য তথ্যও বহু বছরের ব্যবধানে মিথ ও কিংবদন্তিতে পরিণত হয়। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী সে অর্থে অতটা পুরনো না হলেও বাঙালির জাতীয় পুরাণ নির্মাণে বইটির অবদান অসামান্য।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা।

গতকাল সোমবার বিকেলে একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের জাতীয় পুরাণ নির্মাণে শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনীর অবদান’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ ও আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ই আগস্টের শহীদ স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফ্রান্সের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ওরিয়েন্টাল ল্যাঙ্গুয়েজেস অ্যান্ড সিভিলাইজেশনসের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক জেরেমি কদ্রন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সাবেক প্রধান সমন্বয়ক কবি কামাল চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।

অনলাইনে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে অধ্যাপক জেরেমি কদ্রন তাঁর দীর্ঘ প্রবন্ধটি বাংলায় উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের জাতিপুরাণ নির্মাণে বাংলাদেশের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থের ভূমিকা অসামান্য। শেখ মুজিবুর রহমান সংগতই উপলব্ধি করেছিলেন যে জাতীয় পুরাণ নির্মাণে ঐতিহ্য ও সংগ্রামের কোনো বিকল্প নেই। তাঁর আত্মজীবনীতে তিনি নিজ বংশ এবং বাংলাদেশের ইতিহাসের সুদীর্ঘ পরম্পরা সন্ধান করেছেন এবং তার ওপর ভিত্তি করেই তিনি বাংলাদেশের জাতীয় মুক্তির মহাপুরাণ নির্মাণ করেছেন।

কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য ও সমার্থক শব্দ প্রায়। তাঁর সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে আমরা স্বাধীন ভূখণ্ড এবং লাল-সবুজের পতাকা অর্জন করেছি। আজও তাঁরই প্রেরণায় আমরা এগিয়ে চলেছি উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে। যত চেষ্টাই হোক না কেন, বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। বঙ্গবন্ধু জীবদ্দশায় যেমন আমাদের সংগ্রাম ও সংকল্পের প্রতীক ছিলেন, শাহাদাতের এত বছর পরও তিনি তাঁর সেই স্থানেই স্বমহিমায় বিরাজিত রয়েছেন। ’

কবি কামাল চৌধুরী বলেন, বাঙালির শুদ্ধতম নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ঐতিহাসিক এক মহাজীবনে তাঁর সংগ্রাম, অর্জন ও আত্মত্যাগ কখনো বিস্মৃত হওয়ার নয়। ঘৃণ্য ঘাতকরা তাঁকে হত্যা করে বাঙালির ইতিহাসকে ভিন্ন খাতে এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত করতে চেয়েছিল; কিন্তু বাঙালি বঙ্গবন্ধুর জন্ম ও সমাধিস্থল টুঙ্গিপাড়া থেকে প্রতিনিয়ত নিয়ে চলেছে সাহস, সংকল্প এবং এগিয়ে যাওয়ার দুরন্ত প্রেরণা।

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্নকে সফল করার পাশাপাশি স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে আমাদের সামগ্রিক মুক্তির পথ সুগম করেছেন।

 



সাতদিনের সেরা