kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

গরিবের ১০ লাখ টাকা কর্মকর্তার পকেটে

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

১৪ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গরিবের ১০ লাখ টাকা কর্মকর্তার পকেটে

বরগুনার বেতাগী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বায়োগ্যাস ইনপ্যাক্ট প্রকল্প-২ থেকে তিন অর্থবছরে ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নের জহিরুল ইসলাম। গত ৩১ জুলাই অভিযোগটি করেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার ২০১২ সালে বেতাগীর কার্যালয়ে যোগদান করেন।

বিজ্ঞাপন

যোগদানের পর বিভিন্ন প্রকল্প থেকে ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়া শুরু করেন। এ ঘটনায় যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে পিরোজপুরের নেছারাবাদের জ্যেষ্ঠ বিচারিক আদালতে একটি মামলাও রয়েছে। এই মামলায় ২০১৩ সালে এক সপ্তাহ কারাভোগও করেন তিনি। অফিস না করেও কারাভোগকালীন এক সপ্তাহের বেতনভাতাও উত্তোলন করেছেন তিনি। চাকরিবিধি অনুসারে মঞ্জুর হওয়া ছুটি ছাড়া অফিস না করে বেতনভাতা উত্তোলনের কোনো নিয়ম নেই।

সুবিধাভোগীরা জানান, ২০১৫-২০১৬, ২০১৬-২০১৭ ও ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের ইনপ্যাক্ট প্রকল্প ফেইস-২-এর অনুকূলে হতদরিদ্র ১০০ জনের নামে পাঁচ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার এই তিন অর্থবছরে মাত্র ৩০ জনকে পাঁচ হাজার টাকা সঠিকভাবে বরাদ্দ দেন। প্রতি অর্থবছরে বাকি ৭০ জনের নামে বরাদ্দ হওয়া মোট তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা ভুয়া স্বাক্ষর দাখিল করে উত্তোলন করেন। ফলে তিন অর্থবছরে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সুবিধাভোগীদের বঞ্চিত করে স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে এসব টকা তুলেছেন তিনি।

উপজেলার বুড়ামজুমদার ইউনিয়নের কাউনিয়া গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত আম্বিয়া বেগম বলেন, ‘মুই কোনহানে দস্তগত ও টিপসই দেই নাই। হেই মোর নামে পাঁচ হাজার টাহা খাইলো ক্যামনে। ’

বিবিচিনি ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামের দেলোয়ার সিকদার বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে আমার নামে বায়োগ্যাস প্লান্টের পাঁচ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। কিন্তু আমি কোনো টাকা পাইনি। ’ একই গ্রামের সুবিধাভোগী নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমি কয়েক দিন অফিসে গিয়ে জিজ্ঞাসা করি স্যার, বায়োগ্যাস প্রকল্পে সরকার কোনো টাকা দেবে না। উত্তরে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জব্বার সাহেব বলেন, সরকার আপনাদের টাকা বরাদ্দ দেয় নাই। আপনার নামে বরাদ্দ হলে তবেই টাকা পাবেন। তিন বছর পরে শুনি, টাকা ওই কর্মকর্তা নিয়েছেন। মোগো টাকা ওই কর্মকর্তার পকেটে গেছে ক্যামনে?’

এক সপ্তাহ কারাবাসের কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মামলা ছিল—এটা সত্য। তবে মামলাটি আদালত খারিজ করে দিয়েছেন। ’ বায়োগ্যাস প্রকল্পের নামে সুবিধাভোগীদের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে একদল ব্যক্তি মিথ্যা ষড়যন্ত্র রটাচ্ছে। আমি সরকারি কোনো টাকা আত্মসাৎ করিনি। ’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুহৃদ সালেহীন বলেন, ‘সরকারি টাকা আত্মসাৎ তো দূরের কথা, কোনো কর্মকর্তাই নিজের ইচ্ছামতো কাজ করতে পারবেন না। তাঁকে সরকারের আইনানুযায়ী চলতে হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হবে। ’



সাতদিনের সেরা