kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

৩০০ টাকা মজুরি দাবি

দেশের সব চা-বাগানে আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

চতুর্থ দিনের মতো কর্মবিরতি পালন

হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও কমলগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৩ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের সব চা-বাগানে আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের একটি চা-বাগানে গতকাল কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিকরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দৈনিক মজুরি বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করাসহ বিভিন্ন দাবিতে দেশের সব চা-বাগানে আজ শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। হবিগঞ্জের লস্করপুর চা-বাগানের শ্রমিক এবং বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল গতকাল শুক্রবার চুনারুঘাটের দেউন্দি চা-বাগানে এক সমাবেশ থেকে এই ঘোষণা দেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ভানুগাছ রোডের বিভাগীয় শ্রম দপ্তর কার্যালয়ে আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের নিয়ে সমঝোতা বৈঠকে বসে বিভাগীয় শ্রম দপ্তর। বৈঠকে মালিকপক্ষ না থাকায় কোনো সুরাহা করতে পারেনি শ্রম দপ্তর।

বিজ্ঞাপন

এদিন চা শ্রমিক নেতারা বলেছিলেন, বৈঠকে মালিকপক্ষ না থাকায় তাঁরা (শ্রমিক নেতা) আন্দোলন স্থগিত করবেন না। বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি পঙ্কজ কন্দ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা, অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দি, কমল বোনার্জীসহ বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাতটি ভ্যালির নেতারা বৈঠকে অংশ নেন।

এদিকে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চট্টগ্রাম, সিলেটসহ সারা দেশে ২৩২টি ফাঁড়ি বাগানের চা শ্রমিকরা গতকাল চতুর্থ দিনেও আধাবেলা কর্মবিরতি পালন করেছেন। দাবি মানা না হলে আজ থেকে চা-বাগানে কাজ বন্ধ রেখে কাছের শহরে অবস্থান করে বিক্ষোভ মিছিল করবেন আন্দোলনরত চা শ্রমিকরা। গতকাল সকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া চা-বাগানে আন্দোলনরত চা শ্রমিকরা আধাবেলা কর্মবিরতি পালন করেন। একই দাবিতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ২২টি চা-বাগানে গতকাল সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালিত হয়।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিশিরা ভ্যালির সভাপতি বিজয় হাজরা বলেন, ‘মালিকপক্ষ মজুরি বৃদ্ধির ব্যাপারে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। তারা আলোচনারও আগ্রহ দেখায়নি। আমরা ১৯ মাস ধরে ১৩টি সভায় মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি; কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। মালিকপক্ষ ১২০ টাকার সঙ্গে ১৪ টাকা বাড়াতে চায়। ’

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সংগতি রেখে দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের ২৪১টি চা-বাগানের মধ্যে ফাঁড়ি বাগানসহ ২৩২টি চা-বাগানে দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন চা শ্রমিকরা। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও বিভিন্ন ভ্যালির যৌথ সিদ্ধান্তে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

চা শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানা গেছে, চা শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে চা-বাগানের মালিকপক্ষের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা সংসদের করা চুক্তি অনুযায়ী চা শ্রমিকদের মজুরিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ করা হয়। দুই বছর পর পর এই চুক্তি নবায়ন করার কথা। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হয়। এতে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে আর চুক্তি করা হয়নি। সম্প্রতি চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে চা সংসদ মজুরি ১৪ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়, কিন্তু শ্রমিক নেতারা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

শ্রমিকদের বর্ধিত মজুরি নির্ধারণসহ অন্যান্য দাবির বিষয়ে ১ আগস্ট চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটি বাংলাদেশীয় চা সংসদের কাছে চিঠি দেয়। চিঠিতে দাবি মেনে নিতে সাত দিনের সময়সূচি বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।

শ্রীমঙ্গলস্থ বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি আন্দোলনরত চা শ্রমিক নেতাদের নিয়ে আলোচনায় বসেছিলাম। সমাধান হয়নি। তাঁরা কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলন করছেন। এতে উভয় পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ’

 



সাতদিনের সেরা