kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা বিবাহিত

ফরিদ আহমেদ   

১৩ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা বিবাহিত

বিবাহিতদের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কোনো পর্যায়ের কমিটিতে স্থান না দেওয়ার বিধান থাকলেও কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা শাখা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম না মানার অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম রুবেল ও আব্দুল জলিল উভয়ই বিবাহিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁদের বিয়ের ছবি ও কাবিননামার বেশ কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে।

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ৫-এর গ ধারা অনুযায়ী, বিবাহিত ব্যক্তি ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান পাবেন না এবং কমিটিতে ঢোকার পর বিয়ে করার অভিযোগ উঠলে পদ বাতিলের কথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কর্ণপাত না করে সম্প্রতি জেলা কমিটিকে পাশ কাটিয়ে নাঙ্গলকোট সরকারি কলেজ ও পৌরসভা কমিটি অনুমোদন দিয়েছে থানা কমিটি।

গত বছরের ২৫ অক্টোবর থানা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেয় কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ।

বিভিন্ন সূত্র থেকে দাবি করা হচ্ছে, সভাপতি সাইফুল ইসলাম রুবেল গত সাত জুলাই বিয়ে করেন।  উপজেলার পেরিয়া ইউনিয়নের মটুয়া গ্রামের প্রয়াত আবুল হাশেমের মেয়ে অনামিকা সুলতানাকে বিয়ে করেছেন তিনি। তাঁর স্ত্রী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। এই বিয়ের অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের নিকটজনসহ বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন। এই বিয়ের একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে অনামিকা সুলতানার মামা মো. ফাহাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ছাত্রলীগের নেতৃত্বে থাকায় ভাগ্নির বিয়ের বিষয়টি গোপন করা হয়।

কিন্তু সাইফুল ইসলাম রুবেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি বিয়ে করিনি। এটা অপপ্রচার। ’

অন্যদিকে বিভিন্ন সূত্র থেকে দাবি করা হচ্ছে, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল মৌকারা গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে সালমা আক্তারকে বিয়ে করেন। সাত লাখ টাকা কাবিননামায় তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের কাবিননামা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে আব্দুল জলিল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার বিয়ের অভিযোগ অন্য রাজনৈতিক পক্ষ ছড়িয়েছে। এটা সঠিক নয়। ’

জেলা কমিটিকে পাশ কাটিয়ে কমিটি ঘোষণা

গত ৩১ জুলাই নাঙ্গলকোট সরকারি কলেজে তানভীর মাহবুব অন্তরকে সভাপতি ও পৌরসভা ছাত্রলীগে বেলাল হোসাইন শিমুলকে সভাপতি করে নতুন কমিটি ঘোষণা করেন রুবেল ও জলিল। অথচ এই কমিটি দেওয়ার এখতিয়ার তাঁদের নেই। উল্লেখ্য, বর্তমানে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি নেই।

ছাত্রলীগের নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি কলেজ ও প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় কমিটি দেওয়ার ক্ষমতা শুধু জেলা কমিটির রয়েছে। এদিকে জেলা ছাত্রলীগের দেওয়া আগের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়নি।

এ বিষয়ে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন রুবেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নীতিমালায় সরকারি কলেজ ও পৌরসভা কমিটি গঠনের দায়িত্ব জেলা ছাত্রলীগের। ’ এ ছাড়া বিয়ের অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, বিয়ে করার অভিযোগ থাকলে ওই দুজন কোনোভাবেই কমিটিতে থাকতে পারেন না।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি এবং দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আসাদুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, কমিটি গঠনের এখতিয়ার তাঁদের নেই। বিয়ে করলে সংগঠনে থাকার সুযোগও নেই। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।



সাতদিনের সেরা