kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই সমুদ্রে যান জেলেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল   

১৩ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই সমুদ্রে যান জেলেরা

ইলিশ ধরতে গভীর সমুদ্রে যেতে হয় জেলেদের। প্রাকৃতিক দুর্যোগও সেই পেশাগত ঝুঁকিরই অংশ। কিন্তু সেই ঝুঁকি মোকাবেলায় জেলেদের প্রস্তুতি থাকে না বললেই চলে। লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই জেলেরা যাচ্ছেন সমুদ্রে।

বিজ্ঞাপন

এতে প্রতিবছরই ট্রলারডুবিতে প্রাণ খোয়াতে হয় জেলেদের। গত কয়েক দিনে সাগরে একাধিক ট্রলারডুবিতে অন্তত ২৫ জেলে নিখোঁজ হন।  

পায়রা সমুদ্রবন্দরের শেষ বয়া থেকে ১৪ কিলোমিটার গভীরে এফবি নিশাত নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার মঙ্গলবার রাতে ডুবে যায়। ঝড়ের কবলে ১৫ জেলেসহ মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনাটি ঘটে। এতে ট্রলারের ৯ জেলে নিখোঁজ হন। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর এলাকায় ২১ জেলে নিয়ে গভীর বঙ্গোপসাগরের একই জায়গায় মঙ্গলবার আরো দুটি মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্য ট্রলারের মাধ্যমে ১৩ জেলে উদ্ধার হলেও এখনো আট জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।

ডুবে যাওয়া ট্রলার এফবি নিশাতের মাঝি মো. শামিম বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি উল্টে যায়। এ সময় অন্য একটি ট্রলারে আমাকেসহ চার জেলেকে উদ্ধার করে। বুধবার দুপুরে সুন্দরবন এলাকায় আরো দুই জেলের সন্ধান পাওয়া যায়। এখনো ৯ জেলে নিখোঁজ আছেন। ’

মো. শামিম বলেন, ‘আমি এক যুগের বেশি সময় ধরে সাগরে মাছ ধরছি। মঙ্গলবার দুর্ঘটনার সময় ট্রলারটিতে কোনো লাইফ জ্যাকেট ছিল না। ফলে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ট্রলার উল্টে যাওয়ার পর আমাদের কার্যত ভাগ্যের ভরসায় থাকা ছাড়া উপায় ছিল না। ’ তাঁর তথ্য মতে, ভাগ্যের কারণে ১৫ জেলের মধ্যে মাত্র ছয়জন অন্য ট্রলারে করে উঠে এসেছেন। এখনো ট্রলারের ৯ জেলে নিখোঁজ। তাঁরা বেঁচে ফিরবেন কি না সেটা বলা যাচ্ছে না। একমাত্র ওপরওয়ালাই তাঁদের বাঁচিয়ে রাখতে পারেন।

পাথরঘাটার জেলে ইয়াসিন মাঝি বলেন, ‘ট্রলার সমুদ্রের কত গভীরে চলে গেছে, তা জানার মতো আমাদের কোনো ব্যবস্থা নেই। ট্রলারচালকদের কোনো উপযুক্ত প্রশিক্ষণও নেই। শুধু তা-ই নয়, সমুদ্রে গিয়ে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা ট্রলার খারাপ হয়ে গেলে বন্দরে যোগাযোগের কোনো উপায় নেই। ’

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, গভীর সমুদ্রে যাওয়া ট্রলারের কাছে বিপত্সংকেত পাঠানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। কারণ গভীর সমুদ্রে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক কাজ করে না। একই কারণে আবহাওয়া অফিস থেকে আগাম পূর্বাভাস জেলেরা জানতে পারেন না। জানতে না পারায় গভীর সমুদ্রে গিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়তে হয় তাঁদের হামেশাই।



সাতদিনের সেরা