kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৩০ সফর ১৪৪৪

ছুটির চাপে লেখাপড়ায় বিঘ্ন

ইবি প্রতিনিধি   

১৩ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছুটির চাপে লেখাপড়ায় বিঘ্ন

নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রকাশিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, বছরে ১৮০ দিন বন্ধ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। এ ছাড়া ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে ক্লাস বন্ধ থাকবে আরো ৯ দিন। এতে মোট ১৮৯ দিন শ্রেণি কার্যক্রমের বাইরে থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়টি, যা বছরের ৫১.৭৮ শতাংশ সময়।

এদিকে বছরের বেশির ভাগ সময় ছুটি থাকায় ক্লাস-পরীক্ষা, ব্যাবহারিক ও গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া কিছুদিন পর পর ছুটি থাকায় একাডেমিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে বলে দাবি তাঁদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যালেন্ডার বিশ্লেষণে দেখা যায়, উল্লিখিত ছুটির মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি থাকছে ১০৫ দিন। বাকি ৭৫ দিন ঈদ, পূজা, গ্রীষ্মকালীন, শীতকালীন ও অন্যান্য দিবস উপলক্ষে। এর মধ্যে চলতি মাসেই ভর্তি পরীক্ষা ও অন্যান্য ছুটি মিলিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকছে ১৯ দিন। এ ছাড়া আগামী বছরের ২৩ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত রমজান, ঈদুল ফিতরসহ বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে টানা ৩৯ দিন বন্ধ থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়। বিশেষ ক্ষমতাবলে আরো তিন দিন ছুটি দিতে পারবেন উপাচার্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, প্রতি সেমিস্টারে শিক্ষকদের অন্তত সাড়ে তিন মাস ক্লাস নিতে হবে। ক্লাস শেষে ১৫ দিন বিরতি দিয়ে নিতে হবে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা; কিন্তু ছুটি বাদ দিলে হিসাব অনুযায়ী বছরে ক্লাস-পরীক্ষার জন্য সময় থাকে ১৭৬ দিন। এর মধ্যে দুই সেমিস্টারের ফরম পূরণ থেকে চূড়ান্ত পরীক্ষা নিতে বিভাগভেদে চলে যায় আড়াই থেকে তিন মাস। প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান অনুষদের বিভাগগুলোতে মূল পরীক্ষার পাশাপাশি ল্যাব থাকায় তাঁরা ক্লাসের জন্য আরো কম সময় পান। ফলে একেক সেমিস্টারের জন্য ক্লাসের জন্য পাওয়া যায় মাত্র দেড় মাস।

কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা হলে তাঁরা বলেন, ‘অল্প সময়ে কোর্স শেষ হওয়ায় আমরা ক্লাসরুম থেকে তেমন কিছু শিখতে পারছি না। নোট আর নেট থেকে পড়ালেখা করে পরীক্ষা দিতে হয়। ’

বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আবু হেনা মোস্তফা জামাল বলেন, ‘সেমিস্টারে কম সময় পাওয়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর ব্যাপক চাপ পড়ছে। অনেকে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নিচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থীরা কোর্সের বিষয়ে পর্যাপ্ত ধারণা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে ছুটি কমানো প্রয়োজন। ’

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সব বিষয় বিবেচনার পর একাডেমিক কাউন্সিলে এই ছুটি অনুমোদিত হয়। তবে আমরা ছুটি কমানোর চেষ্টা করছি। ’



সাতদিনের সেরা