kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

মেঘনা থেকে বালু উত্তোলন

সেলিম খানের কাছ থেকে চার বছরের রাজস্ব আদায়ের নির্দেশ

আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার ২১টি মৌজার মেঘনার ডুবোচর থেকে বালু উত্তোলনের জন্য আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেলিম খানের কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বালু উত্তোলনসংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ে এ নির্দেশনা এসেছে।

আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

১৬ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি লিখেছেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম।

মেঘনা নদীর চাঁদপুর ও হাইমচর উপজেলার ২১টি মৌজায় হাইড্রোগ্রাফিক জরিপের নির্দেশনা চেয়ে ২০১৫ সালে রিট করেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. সেলিম খান। নৌপথ সচল করার কথা বলে রিট আবেদনটি করা হয়। রিটের প্রাথমিক শুনানির পর ওই বছরের ৯ জুলাই হাইকোর্ট রুল জারি করেন। এই রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় হাইড্রোগ্রাফিক জরিপের প্রতিবেদন চেয়ে সেলিম খান আদালতে সম্পূরক আবেদন করেন। সে আবেদনের শুনানির পর ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর আদালত ৩০ দিনের মধ্যে সেলিম খানের কাছে জরিপ প্রতিবেদন জমা দিতে সংশ্লিষ্ট বিবাদীকে নির্দেশ দেন। পরে রুলের চূড়ান্ত শুনানি করে ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে সদর ও হাইমচর উপজেলার ২১টি মৌজায় মেঘনার ডুবোচর থেকে ৩০ কোটি ৪৮ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমতি দিতে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসকসহ বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ রায়ের চার বছর পর গত মার্চে এক হাজার ৪৪০ দিনের বিলম্ব মার্জনার আবেদনসহ রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। গত ২৯ মে বিলম্ব মার্জনার আবেদন গ্রহণ করে রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে রায় দেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। বেঞ্চের অন্য দুই বিচারপতি হলেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। রায়ে সেলিম খানকে মেঘনার ডুবোচর থেকে বালু তোলার অনুমতি দিতে হাইকোর্টের নির্দেশনার রায় বাতিল করা হয়। সে রায়টিই গতকাল সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

হাইকোর্টের রায়কে ‘গুরুতর ত্রুটিপূর্ণ’ উল্লেখ করে আপিল বিভাগের রায়ে বলা হয়েছে, সরকারকে কোনো রাজস্ব না দিয়েই ২০১৬ সাল থেকে সেলিম খান নির্বিচারে বালু উত্তোলন করেছেন। এতে সরকার ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ফলে হাইকোর্টের রায়ের তারিখ ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল থেকে চলতি বছরের ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সেলিমের কাছ থেকে বালু উত্তোলনের রাজস্ব আদায়ে জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিস্ময়!

হাইকোর্টের রায়ের পর চার বছর সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে আপিল বিভাগের রায়ে বলা হয়েছে, ‘এটাও আমাদের বিস্মিত করে যে সরকারের পক্ষ থেকে হাইকোর্টের রুলের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো হলফনামা দাখিল করা হয়নি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন কর্মকর্তাদের আচরণ অত্যন্ত সন্দেহজনক! বিষয়টি নিয়ে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন দীর্ঘদিন ঘুমিয়ে ছিল। ’



সাতদিনের সেরা