kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০২২ । ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

চট্টগ্রামে ৯০% গণপরিবহন রাস্তায় নামেনি, ভোগান্তি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



চট্টগ্রামে ৯০% গণপরিবহন রাস্তায় নামেনি, ভোগান্তি

চট্টগ্রাম নগরে গতকাল শনিবার সকালে জ্বালানি তেলে চালিত কিছু যানবাহন চলাচল করলেও দুপুরের পর থেকে তা-ও কমে যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে অনেকটা গণপরিবহনশূন্য হয়ে পড়ে নগরের সড়কগুলো। সরকার শুক্রবার রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালেও ভাড়া না বাড়ানোয় গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রাখে (সিএনজিচালিত ছাড়া) মালিক সংগঠনগুলো। এতে অফিসে আসা-যাওয়াসহ বিভিন্ন কাজে বাইরে বের হওয়া লাখো মানুষের দুর্ভোগের অন্ত ছিল না দিনভর।

বিজ্ঞাপন

আবার যেসব জ্বালানি তেলে চালিত যানবাহন চলাচল করেছে, সেগুলো তাদের ইচ্ছামতো বাড়তি ভাড়া আদায় করেছে।

অন্যদিকে গ্যাসের দাম না বাড়লেও সড়কে গণপরিবহন কম থাকার সুযোগে সিএনজিচালিত যানবাহনগুলো দ্বিগুণ-তিন গুণ ভাড়া আদায় করে। এ ছাড়া নগরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে জেলা ও আন্ত জেলার বিভিন্ন রুটেও জ্বালানি তেলে চালিত যানবাহনের ভাড়া বেড়ে গেছে ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত।

খুলনা থেকে আন্ত জেলা চলাচলকারী বাসের সংখ্যা ছিল কম। আন্ত জেলা ও দূরপাল্লার পরিবহনগুলোর যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করা হয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে গতকাল সকাল থেকে সিলেট থেকে উত্তরবঙ্গগামী বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়। বিকেলে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট রোডে ভাড়া না বাড়লেও যেকোনো গন্তব্যে নামলেও একই ভাড়া গুনতে হয়েছে যাত্রীদের।

চট্টগ্রামে বাড়তি ভাড়া

চট্টগ্রাম নগরে ৯০ শতাংশ গণপরিবহন জ্বালানি তেলনির্ভর। নগরে গণপরিবহনে সাতটি মালিক সংগঠন রয়েছে। এসব সংগঠনের কয়েকজন নেতা দাবি করেছেন, গতকাল নগরে প্রায় চার হাজার গণপরিবহনের (বাস-মিনিবাস-হিউম্যান হলার) মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ সড়কে ছিল না। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে তারা গাড়ি সড়কে নামায়নি। আর সড়কে যেসব যানবাহন চলাচল করেছে, সেগুলোর প্রায় প্রত্যেকটিতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়াও অঘোষিতভাবে দ্বিগুণ হয়। নগরে ১৩ হাজারের বেশি সিএনজিচালিত অটোরিকশা রয়েছে। অন্য হালকা যানবাহনগুলোও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে।

অক্সিজেন মোড়ে আলপনা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে দেখা গেছে, চট্ট মেট্রো-জ-১১-০১৮২ নম্বরের একটি বাস যাত্রী নিচ্ছে। বাসের যাত্রী আখতারুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা তিনজন খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা যাচ্ছি। আগে যাত্রীপ্রতি ১৩০ টাকা ভাড়া ছিল। এখন ২০০ টাকা করে দিতে হয়েছে। ’

নগরের বায়েজিদ বোস্তামীর গার্মেন্টকর্মী মোহাম্মদ কবির অসুস্থতার কারণে ছুটি নিয়ে গতকাল দুপুরে কারখানা থেকে ডেবারপাড় কুসুমবাগ এলাকার বাসায় ফিরছিলেন। ষোলোশহর ২ নম্বর গেট থেকে টেম্পোতে জিইসি মোড় এলে তাঁর কাছ থেকে ছয় টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়। এ ছাড়া বাস-মিনিবাস-হিউম্যান হলার-টেম্পোর (হালকা যান) প্রত্যেকটি রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে পাঁচ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে নগরের মালিক সংগঠনগুলো যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখেছে। চার-পাঁচ শ গাড়ি (সিএনজিচালিত) চলাচল করেছে। ’ নগর গণপরিবহন মালিক সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতা গোলাম রসুল বাবুল বলেন, ‘আজকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে নগরে ১০ শতাংশের মতো গাড়ি চলেছে। ’ অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ আসেনি। ’ চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী মঞ্জু বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের পর মালিকরা সড়কে গাড়ি নামাবেন। আমরা লোকসান দিয়ে কিভাবে গাড়ি সড়কে নামাব? সরকার ভাড়া না বাড়ানো পর্যন্ত কোনো গণপরিবহন বাড়তি ভাড়া আদায় করতে পারবে না। ’

বাস কম, বেশি দামে টিকিট বিক্রি

খুলনায় বাসস্ট্যান্ডে যেকোনো মানুষ অন্য কোনো প্রয়োজনে গেলেও যাত্রী মনে করে টানাটানি চলে। গতকাল সে চিত্র ছিল না নগরের আন্ত জেলা বাস টার্মিনাল সোনাডাঙ্গায়। আন্ত জেলা চলাচলকারী বাসের সংখ্যা ছিল কম। বাসের জন্য যাত্রীরা হয়রান হয়েছে, বাসকর্মীদের কাছ থেকে দুর্ব্যবহারেরও শিকার হয়েছে। আর ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করা হয়েছে। দূরপাল্লার পরিবহনগুলোর যাত্রীদের কাছ থেকে গড়ে ১০০ টাকা বেশি আদায় করা হয়; যদিও ভাড়া বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা তখনো আসেনি। সকাল ১১টার দিকে এই চিত্র চোখে পড়ে। একাধিক যাত্রী, বাসচালক, পরিবহন কাউন্টারের দায়িত্ব পালনকারীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে সবাই হতাশা ও বিরক্তি প্রকাশ করেন। তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে খুলনা থেকে বিভিন্ন রুটে সীমিত আকারে গণপরিবহন চলাচল করেছে। সবার এক কথা, আগের ভাড়ায় বাস চালালে খরচ উঠবে না। ভাড়া বেশি চাইলে যাত্রীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হচ্ছে। ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত না হওয়ায় বাড়তি ভাড়া একেকজন একেকভাবে নিচ্ছে। মালিকের সম্মতিতে অনেকেই বেশি ভাড়া আদায় করছে।  

গভীর রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ, অবরোধ

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির খবরে শুক্রবার রাতে সিলেট নগরের পেট্রল পাম্পগুলোতে যানবাহনের ঢল নামে। গাড়ি ও মোটরসাইকেলের জটলা রাস্তা পর্যন্ত নেমে আসে। এদিকে দাম বাড়ার সুযোগ কাজে লাগতে বেশির ভাগ পেট্রোল পাম্পে রাত ১০টার পর থেকে তেল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়। অন্যদিকে তেল নিতে মরিয়া চালকরা, বিশেষ করে মোটরসাইকেলচালকরা সিলেটের পাঠানটুলা, চৌকিদেখি, সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক এবং সোবহানীঘাট-উপশহর সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার রাত ৩টা পর্যন্ত বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশ অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয়।

সিলেটের আন্ত জেলা রোডের বাসভাড়া এখনো বাড়েনি।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার কালের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধি। ]

 

 



সাতদিনের সেরা