kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

রাবির হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল

ছাত্রলীগের বাধা ডিঙিয়ে ২০ শিক্ষার্থীকে হলে তুলে দিয়েছে প্রশাসন

রাবি প্রতিনিধি   

৩ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের কক্ষ থেকে বের করে তাঁদের সিটে ২০ আবাসিক শিক্ষার্থীকে তোলা হয়েছে। শুক্রবার রাত ৯টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত হল প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে তাঁদের সিটে তুলে দেওয়া হয়। তবে এখনো ২৪ আবাসিক শিক্ষার্থী হলে উঠতে পারেননি। তাঁদের কোরবানির ঈদের পর তোলা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাধ্যক্ষ।

বিজ্ঞাপন

অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী হওয়ায় আবাসিক শিক্ষার্থীদের সিটে তুলতে ছাত্রলীগের বাধার মুখে পড়ে হল প্রশাসন।

হল প্রশাসন সূত্র জানায়, করোনা মহামারির পর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে ৯৪টি আসন খালি হয়। পরে হল প্রশাসন সিট বরাদ্দের জন্য শিক্ষার্থীদের আবেদন আহ্বান করে। আবেদন শেষে ৬৬ জন শিক্ষার্থীকে সিট বরাদ্দ দেয় হল প্রশাসন। এঁদের মধ্যে ১৩ জন আগে থেকে হলে ছিলেন আর ৯ জনকে পরে হলে তুলে দেয় প্রশাসন। বাকি ৭২টি সিট অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের দখলে থাকে। এই অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী বলে জানা গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে আবাসিক ৪৪ জন ছাত্রকে হলে তুলতে গত ২৩ জুন হল প্রাধ্যক্ষ অনাবাসিকদের ২৯ জুনের মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেন। আর কোনো অনাবাসিক শিক্ষার্থীর সমস্যা থাকলে অভিভাবকসহ ২৮ জুনের মধ্যে প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়। এর মধ্যে কয়েকজন প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করলে তাঁদের হলে রাখা হয়। আবাসিক শিক্ষার্থীদের হলে উঠতে বাধা দিলে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানায় হল প্রশাসন।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গত শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে অনাবাসিক ছাত্রদের হল থেকে নামানোর অভিযান শুরুর কথা ছিল। কিন্তু হল প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ফেরদৌসী মহল সেখানে আসতে দেরি করায় হল প্রশাসন শিক্ষার্থীদের হলে ওঠাতে পারেনি। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তাঁদের বিছানাপত্র নিয়ে হল ফটকের সামনে অবস্থান নেন। পরে সন্ধ্যার দিকে প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক আসেন। তখন হল প্রাধ্যক্ষ, অধ্যাপক ফেরদৌসী মহল, ছাত্র উপদেষ্টা তারেক নূর এবং হলের আবাসিক শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনায় বসেন। পাঁচ ঘণ্টা আলোচনার পর রাত ৯টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত হল প্রশাসন ২০ জন শিক্ষার্থীকে সিটে তুলে দেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে হলের ভাড়া দিয়ে আসছি, কিন্তু হলে উঠতে পারছিলাম না। প্রভোস্ট স্যার আমাকে হলে তুলে দিতে ডাকে। এ জন্য আমি বিছানাপত্র নিয়ে হলে আসি। পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর স্যার আমাকে আমার সিটে তুলে দিয়েছেন। এমন উদ্যোগের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। ’

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, ‘আমাদের যাঁরা হলের সিটে আছেন, তিনি যে-ই হোন না কেন আমাদের প্রথম পরিচয় আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আমাদের যাঁরা সিটে আছেন তাঁদের জন্য আমরা প্রাধ্যক্ষের কাছে বারবার গেছি সিট বরাদ্দের জন্য, কিন্তু তিনি রাজি হননি। তিনি তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ থেকে তাঁদের সিটগুলো দিয়েছেন। ’

হল প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোসা. ফেরদৌসী মহল বলেন, হলগুলোতে বিভিন্ন মহলের প্রভাবে অনেক শিক্ষার্থী অবৈধভাবে অবস্থান করছে। ফলে হলের বৈধ শিক্ষার্থীরা সিট না পেয়ে ভোগান্তিতে রয়েছে। হলের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে এমন অভিযান চলমান থাকবে।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল প্রাধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘অবৈধভাবে হলে অবস্থান, সিট দখল ও বৈধ শিক্ষার্থী নামিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বৈধ শিক্ষার্থীদের হলে ওঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজকে আমরা ২০ জনকে তুলে দিয়েছি, বাকি ২৪ জনকে ঈদের পর তুলে দেব। ’

 



সাতদিনের সেরা