kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

কুড়িগ্রামে যাচ্ছে খাবার নারীদের স্বাস্থ্য উপকরণ

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘আমাদের প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবন হঠাৎ উল্টে গেছে বন্যায়। আমার ঘর পানির নিচে। যেদিকে তাকাই, শুধু পানি ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ে না। আমার পুরো পরিবারই খাবারের সংকটে ভুগছে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু আমার যেন বাড়তি সংকট। এ রকম পরিস্থিতিতে মাসিক ব্যবস্থাপনা কিভাবে করব? কাপড় কিভাবে পালটাব? আমি কিছুই জানি না। ’

এভাবেই নিজের অসহায় অবস্থার বর্ণনা দিচ্ছিলেন জোসনা (৩৫)। জোসনার মতো কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর কচাকাটা ও বল্লভেরখাস ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে খাদ্য ও অন্যান্য সহযোগিতা নিয়ে জরুরি সাড়া প্রদানের (ইমার্জেন্সি রেস্পন্সের) কাজ করে চলেছে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। এই কার্যক্রমের মূলে আছে কিশোরী ও নারীদের মৌলিক চাহিদা পূরণ।   

নাগেশ্বরীর আরেক নারী মর্জিনা বলেন, ‘বন্যার এই ভয়াবহ আঘাতের পর আমাদের আর খাবার রান্না করে খাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এমন সংকটের সময় এই শুকনা খাবারের সহায়তা পাওয়াটা আমাদের জন্য বিরাট স্বস্তি। তা ছাড়া মাসিক ব্যবস্থাপনার জন্য যে প্রয়োজনীয় উপকরণ, এটা জরুরি ছিল ভীষণ। কারণ এই সমস্যার কথা তো আমরা কাউকে গিয়ে বলতে পারি না। ’

গতকাল সোমবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল জানায়, জরুরি সাড়া প্রদানের প্রথম ধাপে পাঁচ হাজার ৫৬০ প্যাকেট শুষ্ক খাবার, এক লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, এক হাজার ৮৪০টি অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও এক হাজার ৮২০টি মাসিক ব্যবস্থাপনার উপকরণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বন্যাকবলিত মানুষের কাছে।

বন্যাকবলিত কুড়িগ্রামে পানির স্তর কমে এলেও সেখানে বসবাসরত লাখো মানুষ হারিয়েছে স্বাভাবিক জীবনযাপনের ন্যূনতম সম্বল। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলেও রয়ে গেছে সংকট, তৈরি হচ্ছে নিত্যনতুন সমস্যা।

স্বল্পকালীন জরুরি এই সাড়াপ্রদান প্রকল্প বাস্তবায়নে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালকে সহায়তা করছে মহিদেব যুব সমাজ কল্যাণ সমিতি। কমিউনিটির কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার এই কার্যক্রমের সময় উপস্থিত ছিলেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সেন্ট্রাল এবং নর্দান রিজিওনের প্রধান আশিক বিল্লাহ, কচাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন ও বল্লভেরখাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রাজ্জাক।

আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে এই বন্যায় কুড়িগ্রামের দুই লাখেরও বেশি মানুষ তাদের বাসস্থান হারিয়েছে। নাগেশ্বরীতে আমরা সবার আগে জরুরি সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসি। বন্যা-পরবর্তী এই সময়ে পানিবাহিত রোগের কারণে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের দুর্ভোগের সীমা নেই। স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা জরুরি। ’

 



সাতদিনের সেরা