kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

সব হারিয়ে শাহাবুদ্দিনের ভরসা এখন নৌকা

ঘরে ২০০ মণ ধান ছিল। সব বন্যায় ভেসে গেছে। এখনো বাড়িতে কোমর সমান পানি। মো. শাহাবুদ্দিন

তামজিদ হাসান তুরাগ   

২৪ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মো. শাহাবুদ্দিন (৩৮)। তিন দিন আগেও তাঁর ঘরে ছিল ২০০ মণ ধান, ২০ মণ চাল ও কিছু শাক-সবজি। কিন্তু এখন তাঁর ঘর শূন্য। পাহাড়ি ঢলে ভেসে গেছে তাঁর সব কিছু।

বিজ্ঞাপন

অবস্থাসম্পন্ন কৃষক শাহাবুদ্দিন তাই এখন হাতে নিয়েছেন বৈঠা। মাছ ধরার জন্য শখ করে বানিয়ে নিয়েছিলেন একটি নৌকা, সেই নৌকাই আজ তাঁর জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কাঁঠালবাড়ী এলাকায় নৌকায় লোকজনকে পারাপার করিয়ে সংসার চালাচ্ছেন তিনি।

শুধু শাহাবুদ্দিন নয়, তাঁর বড় ভাই রিয়ানও বৈঠা হাতে নিয়েছেন। গত বুধবার শাহাবুদ্দিনের নৌকায় বসে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। পাহাড়ি ঢলের বর্ণনা দিয়ে শাহাবুদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঘরে ২০০ মণ ধান ছিল। সব বন্যায় ভেসে গেছে। এখনো বাড়িতে কোমর সমান পানি। পরিবারসহ আমি থাকছি আশ্রয়কেন্দ্রে। আজ (বুধবার) বাড়িতে গিয়ে দেখি সব কিছু নষ্ট হয়ে গেছে, ঘরে কিচ্ছু নাই। ’ শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘এই নৌকা দিয়েই আমারও পরিবারের জীবন বেঁচেছে। এক কাপড়ে আমরা ঘর থেকে বের হয়েছি। এখন নৌকা চালিয়ে চলছে সংসার। ’

নৌকা চালিয়ে আয় কেমন—জানতে চাইলে শাহাবুদ্দিন মৃদু হাসেন। বলেন, ‘দুই দিন নৌকা চালিয়ে একটু বেশি আয় করেছি গত দুই দিন। তাই একটা নতুন লুঙ্গি আর একটা শার্ট কিনেছি। এক কাপড়ে আর কত দিন!’

শাহাবুদ্দিনের দুই ছেলে, এক মেয়ে। জীবনে এমন ভয়াবহ বন্যা দেখেননি তিনি, সঙ্গে ঝড়। ঝড়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে বললেন, ‘বাতাসের কারণে আমাদের ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে। ঘরের কাঁথা-বালিশ কিছু আনতে পারিনি। শুধু গরু দুটি আর হাঁস-মুরগি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছি। ’

একই অবস্থা শাহাবুদ্দিনের বড় ভাই রিয়ানেরও। তাঁর ঘরেও ছিল ২০ মণ চাল। বন্যায় ভেসে গেছে সব। ড্রামে কিছু চাল ছিল। সেগুলো কিছুটা উদ্ধার করতে পেরেছেন রিয়ান। তবে সেগুলোও আর খাওয়ার যোগ্য নয়। কালের কণ্ঠকে রিয়ান বলেন, ‘ঘরে যা ছিল, বন্যার পানিতে সব ভেসে গেছে। সবাই মিলে খুব কষ্টে আছি। ত্রাণ দুই-চারটা পাই কিন্তু তা পরিমাণে খুব কম। চিড়া-মুড়ি দিয়েই চলছে দিনরাত। ’

 



সাতদিনের সেরা