kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২৯ সফর ১৪৪৪

১৪০০ কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

রাশেদুল তুষার ও আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৯ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



১৪০০ কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাথমিকভাবে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এর ফলে দেশের রপ্তানি খাতের উদ্যোক্তাদের ওপর খুব বেশি প্রভাব পড়বে না বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ক্রেতার পণ্য কনটেইনার ডিপোতে হস্তান্তরের পর উদ্যোক্তাদের আর দায় থাকে না। বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) তথ্য মতে, আগুন লাগার সময় বিএম ডিপোতে চার হাজার ৩১৮ একক কনটেইনার ছিল।

বিজ্ঞাপন

এর মধ্যে ২,৮৯৭টি ছিল খালি কনটেইনার। বাকি ৮৬৭টি কনটেইনারে ছিল রপ্তানি পণ্য আর ৫৫৭টি কনটেইনারে ছিল আমদানি পণ্য।

গতকাল বুধবার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এক ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আগুনে ডিপোতে থাকা কমপক্ষে ৪০০ একক কনটেইনার পুড়ে গেছে। অন্য কোন সরকারি সংস্থা ওই ডিপোতে কী পরিমাণ কনটেইনার ছিল, কতটি পুড়েছে কিংবা কতটি অক্ষত আছে সেই হিসাব করেনি।  

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ডিপোতে পণ্যভর্তি একক কনটেইনার ছিল এক হাজার ৪২৪টি। এগুলো আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার। যদি ৪০০ একক কনটেইনার পুড়ে যায় তাহলে পণ্যভর্তি বাকি কনটেইনার থাকে এক হাজার ২৪টি। সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ অন্য দপ্তরের তথ্য আমলে নিলে, ডিপোতে বেশি পুড়েছে রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার।

বিকডা সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সিকদার হিসাব করে দেখিয়েছেন, প্রতি ৪০ ফুটের একটি কনটেইনারে সাধারণত এক কোটি টাকার এবং ২০ ফুটের কনটেইনারে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার পণ্য থাকে। সেই হিসাবে কনটেইনারে থাকা রপ্তানি পণ্যের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার। আর আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়া ওয়্যারহাউসে ছিল প্রায় ৩০০ কোটি টাকার রপ্তানি পণ্য। আমদানি পণ্যবোঝাই ৫০০ কনটেইনারে ছিল ৪০০ কোটি টাকার পণ্য। পুড়ে যাওয়া দেড় হাজার খালি কনটেইনার ও বিএম ডিপো কর্তৃপক্ষের ক্ষয়ক্ষতি মিলিয়ে আরো অন্তত ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

বিকডা সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সিকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, ওই অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে বিএম ডিপোতে অন্তত এক হাজার ৪০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা খুব সহজ হতো, যদি বিএম ডিপোর সার্ভারটি পুড়ে না যেত। ’

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে প্রাথমিকভাবে ডিপো কর্তৃপক্ষও প্রায় একই কথা বলেছে। গত মঙ্গলবার ডিপোর মালিকানা প্রতিষ্ঠান স্মার্ট গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেহেতু সার্ভে হয়নি, তাই আমাদের অনুমান ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এক হাজার ৪০০ কোটি টাকার নিচে হবে না। এখানে প্রচুর পরিমাণ গার্মেন্ট আইটেম ছিল, ফুড আইটেম ছিল, অন্যান্য আইটেমের সঙ্গে খালি কনটেইনার মিলে প্রায় চার হাজার ৩১৮টি কনটেইনার ছিল। এসবের মধ্যে কতটির কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সেটা বের করতে সময় লাগবে। ’

এদিকে শুরুতে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১০০ মিলিয়ন ডলার বা ৯০০ কোটি টাকা দাবি করলেও আগুন যত নিয়ন্ত্রণে আসছে, তৈরি পোশাক খাতের ক্ষতির ব্যাপারে কিছুটা আশার আলো দেখা দিচ্ছে। আগুন ও বিস্ফোরণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বিএম ডিপোর পূর্ব পাশে একটি নতুন ওয়্যারহাউস বা গুদাম সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। সেখানে রাখা রপ্তানিমুখী গার্মেন্ট পণ্য অক্ষত আছে। ওই পণ্য বোঝাই করতে ৭০ থেকে ৮০টি কনটেইনার প্রয়োজন হবে। কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন বিজিএমইএর সহসভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী।

গতকাল সন্ধ্যায় তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, ১২০টি কারখানার ৩৭.৪৫ মিলিয়ন ডলার বা ৩৪৩ কোটি টাকার পণ্যের হিসাব এখনো পাননি।

অক্ষত পণ্যগুলো দ্রুত শিপমেন্টের ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি অক্ষত পণ্যগুলো দ্রুত শিপমেন্টের ব্যবস্থা করতে। যত দ্রুত সম্ভব বিএম ডিপো থেকে পণ্যগুলো অন্য ইয়ার্ডে নিয়ে সেখান থেকে জাহাজীকরণের ব্যবস্থা করতে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান ও কাস্টমকে মৌখিকভাবে অনুরোধ করেছি, যাতে রপ্তানিকারকদের পেমেন্ট নিয়ে কোনো জটিলতা না হয়। ’

বিজিএমইএ জানায়, মূলত সুইডেনভিত্তিক বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড এইচঅ্যান্ডএম, ডাচ ব্র্যান্ড সিঅ্যান্ডএ, যুক্তরাষ্ট্রের টার্গেট ও পিভিএইচ বায়ারের পণ্য ছিল ডিপোটিতে। আগুন ও বিস্ফোরণের ব্যাপকতা এত বেশি ছিল যে ডিপোতে থাকা কোনো কনটেইনার অক্ষত থাকার সম্ভাবনা নেই। সব মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে ৯০০ কোটি টাকার গার্মেন্টপণ্য পুড়ে যাওয়ার ধারণা করা হচ্ছে।

ফোরএইচ গ্রুপের সিনিয়র ডিজিএম এম এ জি হান্নান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঘটনার পরদিনই আমরা কাস্টমারদের কাছে পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছি। অডিট হয়নি বলে আসলেই জানি না আমাদের পণ্য কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। ’

তিনি বলেন, ‘পত্রিকা মারফত জানতে পেরেছি, এইচঅ্যান্ডএম কর্তৃপক্ষ পুড়ে যাওয়া পণ্যের অর্থ ছাড় করবে। যদিও আমরা অফিশিয়ালি এমন কোনো ঘোষণা পাইনি। এর পরও এটি স্বস্তির খবর। এতে অন্য বায়াররাও বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবেন। পিভিএইচের এজেন্ট মঙ্গলবার আমাদের অফিস ভিজিট করেছেন। এ ছাড়া মার্কসলাইন শিপিংয়ের ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার ডেমকোর সঙ্গেও তাঁরা যোগাযোগ করেছেন। ’



সাতদিনের সেরা