kalerkantho

সোমবার । ১৫ আগস্ট ২০২২ । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৬ মহররম ১৪৪৪

মালিক সমিতির নামে চাঁদা তুলে ভাগাভাগি

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

২৩ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মালিক সমিতির নামে চাঁদা তুলে ভাগাভাগি

রাজশাহীতে মালিক সমিতির নামে দেড় হাজার সিএনজিচালিত আটোরিকশা (সিএনজি) ও হিউম্যান হলার থেকে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হচ্ছে। চালক কল্যাণের কথা বলে এই চাঁদা তোলা হলেও টাকা ভাগাভাগি করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী নগরীর রেলগেট থেকে বাগমারা উপজেলার মোহনগঞ্জ পর্যন্ত চলাচল করে তিন চাকার সিএনজি। ভোর থেকে ব্যস্ততম রেলগেট এলাকায় গভীর রাত পর্যন্ত এসব সিএনজি সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকে।

বিজ্ঞাপন

এরপর সিরিয়াল অনুযায়ী একে একে ছেড়ে যায় গন্তব্যস্থলের দিকে। এই সিএনজি স্টেশনে দিনের বেশির ভাগ সময় অন্তত দেড়-দুই শ সিএনজি রাস্তার ওপরই থাকে। যাত্রী ধরার জন্য চালকরা হাঁকডাক করেন।

চলাকরা জানান, দিনে এখান থেকে গড়ে এক হাজার ২০০ সিএনজি চলাচল করে। এ জন্য এ স্টেশনের মালিক সমিতিকে চাঁদা দিতে হয় ৪০ টাকা, শ্রমিক অফিসকে ৫৫ টাকা, দুর্গাপুরের কানপাড়া বাজারে ২০ টাকা এবং মোহনগঞ্জে ২০ টাকা। এভাবে ১২০০ সিএনজিকে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ ৬২ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হচ্ছে।

একাধিক সিএনজির চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, একটি সিএনজি থেকে প্রতিদিন ১৩৫ টাকা চাঁদা তোলা হচ্ছে তিন জায়গায়। কিন্তু এই টাকার কোনো হিসাব নেই। কোনো বিপদে পড়লেও সমিতি চালকদের তেমন কোনো সহযোগিতা করে না। অথচ মালিক সমিতির নামে প্রতিদিন ৪০ টাকা, শ্রমিক সমিতির নামে ৫৫ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। একজন চালক বলেন, ‘টাকার বিষয়ে আমরা প্রশ্ন করলেই সমিতি থেকে বলা হয়, পুলিশকে চাঁদা দিতে হয়, বছর শেষে চালকদের টাকা দিতে হয়, অফিস খরচ হয়। তাতেই শেষ হয়ে যায়। আসলে টাকাগুলো লুটপাট করা হয়। ’

এদিকে কোর্ট এলাকা থেকে বানেশ্বর পর্যন্ত চলে অন্তত ৩০০ হিউম্যান হোলার। প্রতিটি চার চাকার যানের মালিক সমিতিকে দৈনিক ৮০ টাকা, কোর্ট এলাকার মাস্টারকে ৩০ টাকা, সাহেববাজারে ২৫ টাকা, কাটাখালীতে ১০ টাকা, বেলপুকুরে ১০ টাকা ও বানেশ্বরে ৩০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। এভাবে প্রতিটি যানকে এ রুটে চলাচল করতে ১৮৫ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। গড়ে এ রুটে প্রতিদিন চাঁদা তোলা হয় অন্তত ৫৫ হাজার টাকা। মাসে তোলা হয় অন্তত ১৬ লাখ টাকা।

হিউম্যান হলারের এক চালক বলেন, ‘গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হলেও আমাদের কোনো সহযোগিতা করা হয় না। প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা চাঁদা তুলে লুটপাট করা হয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করার নামে। ’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা হিউম্যান হলার মালিক সমিতির সভাপতি শরিফ উদ্দিন বলেন, এখন দেড় শর মতো গাড়ি চলে। এসব গাড়ি থেকে চাঁদা তোলা হয়। তবে চাঁদার হিসাব কাউকে দেওয়া সম্ভব নয়।

জানতে চাইলে সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি মিলু হোসেন বলেন, ‘বেশির ভাগ টাকা বিভিন্ন খাতে খরচ হয়। না হলে প্রশাসন ঝামেলা করে রাস্তায় সিএনজি চালাতে দেয় না। আবার বছর শেষে চালকদেরও কিছু টাকা দেওয়া হয়। এভাবেই সমিতি চলে। না হলে কোনো শৃঙ্খলা থাকে না। ’

এদিকে জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর ট্রাফিক পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার অনির্বাণ চাকমা বলেন, সিএনজি থেকে চাঁদার ভাগ পুলিশ পায়—এই অভিযোগ সঠিক নয়। তবে এ ধরনের অভিযোগ থাকলে খতিয়ে দেখা হবে।



সাতদিনের সেরা