kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

আইসিজেতে ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে মামলার শুনানি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৬ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে। মামলার বাদী গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি মামলার শুনানিতে মিয়ানমারের জান্তার প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ গ্রহণের বিষয়ে আইসিজের এখতিয়ারকে চ্যালেঞ্জ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল দাওদা জালো বলেন, আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি হাইব্রিড পদ্ধতিতে শুনানি শুরু হবে।

বিজ্ঞাপন

২০১৯ সালে আইসিজেতে প্রথম দফা শুনানিতে মিয়ানমারের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তৎকালীন স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি। গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে অভ্যুত্থানের পর সামরিক বাহিনী ওই মামলায় মিয়ানমারের প্রতিনিধি হিসেবে সু চিকে সরিয়ে দিয়েছে।

রয়টার্স জানায়, কভিড-১৯ মহামারির ব্যবস্থা হিসেবে হাইব্রিড পদ্ধতির শুনানিতে কয়েকজন সশরীরে আদালতে উপস্থিত থাকেন। বাকিরা অনলাইনে আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

আইসিজের মুখপাত্র রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার নতুন শুনানির তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অভিযানের মুখে সাত লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেছেন, গণহত্যার আগ্রহ নিয়েই মিয়ানমার বাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছিল।

২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে দ্য হেগে আইসিজের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধে অন্তর্বর্তী আদেশের বিষয়ে শুনানি হয়েছিল। সু চি আদালতে উপস্থিত হয়ে অন্তর্বর্তী আদেশ না দেওয়ার ও মামলা খারিজ করে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়েছিলেন।  

গত বছর মিয়ানমারের বেসামরিক সরকারকে উত্খাত করার পর সামরিক বাহিনী সু চিকে গ্রেপ্তার করেছে। সু চির এরই মধ্যে ছয় বছর কারাদণ্ড হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মিয়ানমারে আরো মামলা চলছে। মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক গণ-আন্দোলন চলছে। অন্যদিকে জান্তা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রয়টার্স জানায়, জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত আইসিসিতে মিয়ানমারের বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় আছে জান্তা।

মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত সূত্রগুলো জানায়, আইসিজের অন্তর্বর্তী আদেশ প্রতিপালনের বিষয়ে প্রতি ছয় মাস পর পর আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা। জান্তা এ ক্ষেত্রে আদালতের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে। আইসিজের অন্তর্বর্তী আদেশবিষয়ক প্রতিবেদনটি উন্মুক্ত নয়।

আইসিজেতে আসন্ন শুনানিতে মিয়ানমার এই মামলায় আইসিজের বিচারিক এখতিয়ারকে চ্যালেঞ্জ করবে। গণহত্যা হয়েছে কি না সে বিষয়ে শুনানি হবে এর পরের ধাপে।

আইসিজেতে মামলা শুনানির যখন প্রস্তুতি চলছে, তখন রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচারের বিষয় নিয়ে মিয়ানমার বাহিনীর টেলিগ্রাম বার্তা ফাঁস হয়েছে। ওই বার্তায় আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি), আর্জেন্টিনার ফেডারেল আদালত বা বিদেশি কোনো আদালতের সমন বা পরোয়ানাসংক্রান্ত সম্ভাব্য কোনো চিঠি গ্রহণ না করতে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আইসিজে তার সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে মিয়ানমারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারে। রোহিঙ্গা জেনোসাইড বন্ধে অন্তর্বর্তী নির্দেশনা দিয়েছে। মিয়ানমার তা মেনে চলছে কি না, তাও আইসিজের নজরে আছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, আইসিজেতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার মামলার নেপথ্যে আছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এ মামলার প্রস্তাব ইসলামী সহযোগিতা সংস্থায় (ওআইসি) তুলেছিল। ওআইসির পক্ষে গাম্বিয়া ওই মামলা করেছে। কানাডা, নেদারল্যান্ডস এরই মধ্যে এ মামলায় গাম্বিয়ার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে।



সাতদিনের সেরা