kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

জাতিসংঘ সংস্কারের ডাক

নতুন কোনো শীতল যুদ্ধের ভার বিশ্ব নিতে পারবে না

মিয়ানমারকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের রায় মানতে হবে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিসংঘ ব্যবস্থা সংস্কারের দাবি উঠেছে ঢাকায় শান্তি সম্মেলনে। একই সঙ্গে নতুন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শীতল যুুদ্ধের আশঙ্কার বিষয়েও সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার বিকেলে সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আরব লীগের সাবেক মহাসচিব আমর মুসা বলেন, শান্তি, নিরাপত্তা ঝুঁকি, হুমকি মোকাবেলায় বৈশ্বিক উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবেলায় নেওয়া উদ্যোগগুলোর বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের ‘ভেটো’ দেওয়া ঠিক নয়।

বিজ্ঞাপন

এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদের সংস্কার করা প্রয়োজন।

আমর মুসা বলেন, এক বা একাধিক শীতল যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক শীতল যুদ্ধের আশঙ্কার কথা শোনা যাচ্ছে। এই বিশ্ব, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো আর কোনো শীতল যুদ্ধের বোঝা নিতে পারবে না। তাই শীতল যুদ্ধ ঠেকাতে বিশ্বনেতাদের কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ব ইসলামিক অর্থনৈতিক ফোরাম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও মালয়েশিয়ার সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ হামিদ আলবার ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ থেকে দ্রুত বর্ধনশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে বাংলাদেশের স্বীকৃতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ বিপুল অর্থ খরচ করে ভাসানচরে আবাসনের ব্যবস্থা করেছে।

হামিদ আলবার বলেন, মিয়ানমারের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তার উদ্যোগগুলো পুনর্বিবেচনা করা দরকার। মিয়ানমারকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের (আইসিজে) রায় মানতে হবে। তিনি বলেন, জান্তার কারণে মিয়ানমার পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে। সেখানে গণহত্যার বিচারের জন্য যুগোশ্লাভিয়া, রুয়ান্ডার মতো অ্যাডহক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা উচিত। শান্তি প্রতিষ্ঠার উপায় হলো সবার জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন বিশ্বশান্তির জন্য অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেন। বিশ্বে কভিডের নতুন ধরন ওমিক্রন সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে তিনি টিকাদান কার্যক্রম ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টা জোরদার করার আহ্বান জানান।

বান কি মুন বলেন, কভিড মহামারির কারণে বিশ্বে দরিদ্রদের পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়েছে। টিকার ন্যায্য বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ সবাই নিরাপদ না হলে কেউ নিরাপদ নয়।

জি-৭ ও জি-২০-তে ভারতের শেরপা এবং সাবেক মন্ত্রী সুরেশ প্রভাকর প্রভু বলেন, বঙ্গবন্ধু সারা জীবন শান্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করেছে। সরকারি উদ্যোগেই শান্তি প্রাধান্য পাওয়া উচিত। বৈষম্য থাকলে শান্তি আসবে না। শান্তির জন্য সাম্য ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি আবশ্যক।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বঙ্গভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলন উদ্বোধন করেন। সব ধরনের বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সব মানুষের জন্য একটি ন্যায্য আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রয়োজন। আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে আমরা একটি অভিন্ন পৃথিবীতে বাস করি। আমাদেরও দায়িত্ব আছে। ’

শান্তি সম্মেলনের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে সমাজে সবার অন্তর্ভুক্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

জাতিসংঘের সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল আনোয়ারুল করিম চৌধুরী ‘শান্তির সংস্কৃতি’ ও ‘বৈশ্বিক নাগরিক’ ধারণার ওপর জোর দেন। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনও বক্তব্য দেন।

ঢাকা শান্তি ঘোষণা গ্রহণের মধ্য দিয়ে আজ রবিবার সম্মেলন শেষ হবে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।



সাতদিনের সেরা