kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ২৮ জানুয়ারি ২০২২। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

পানির অপচয় কমাতে গিয়ে আড়াই কোটি টাকা জলে

♦ ভেস্তে গেল চুয়াডাঙ্গা পৌর কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা
♦ চুরি হয়ে গেছে গ্রাহকদের দেওয়া বেশির ভাগ মিটার
♦ নতুন মিটার স্থাপন করার কাজও বন্ধ

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি   

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পানির অপচয় ঠেকাতে বাসাবাড়িতে মিটার স্থাপনের উদ্যোগ নেয় চুয়াডাঙ্গা পৌর কর্তৃপক্ষ। তবে শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে গেছে। সেই সঙ্গে অপচয় হয়েছে প্রকল্পের আড়াই কোটি টাকা।

চুয়াডাঙ্গা পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, পৌর এলাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক—গ্রাহকদের এই দুই ধরনের চাহিদা অনুযায়ী আধাইঞ্চি, পৌনে এক ইঞ্চি ও এক ইঞ্চি ব্যাসের পাইপে পানি সরবরাহ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

মাসে নির্ধারিত বিল ১৬০, ২৫০ ও ৪২৫ টাকা। পানি কম-বেশি যা-ই খরচ হোক না কেন বিল একই। এতে অসচেতনতার কারণে পানি অপচয় হয়। এটি রোধ করতে তৃতীয় নগর পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের (ইউজিপ-৩) আওতায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৯ সালের জুন মাসে মিটার স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়।

গ্রাহকদের বাড়িতে পানি সরবরাহের পাইপে মিটার স্থাপন করে দেওয়া হয়। ২০২১ সালের শুরুর দিকে কাজ শেষ পর্যায়ে চলে আসে। সব মিটার স্থাপন শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে তা চালু করার কথা ছিল; কিন্তু এর আগেই স্থাপন করা বেশির ভাগ মিটারই চুরি হয়ে যায়। নতুন করে মিটার স্থাপনের কাজও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পৌর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি মিটার স্থাপনে খরচ হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। প্রথম পর্যায়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে দাম নেওয়া হয়নি। পরে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল।

গ্রাহকদের অভিযোগ, বেশির ভাগ মিটার স্থাপন করা হয়েছিল গ্রাহকের বাড়ির বাইরে অরক্ষিত স্থানে। এ কারণে চোরচক্র তা সহজে ভেঙে চুরি করে নিয়ে যেতে পেরেছে। হাতে গোনা কয়েকটি বাড়ির ভেতরে মিটার স্থাপন করা হয়, সেগুলো চুরি হয়নি। মিটারের নিরাপত্তার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে আগেই ভাবতে হতো।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘দুই মাসের কিছু বেশি সময় আমি এই থানায় যোগদান করেছি। যোগদানের পর পানির মিটার চুরির কোনো অভিযোগ পাইনি। ’

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (পানি) এ এইচ এম শাহীদুর রশিদ বলেন, ‘পৌর এলাকায় মোট পানির গ্রাহক সাত হাজার ১০০। মিটার স্থাপন করা হয়েছিল ছয় হাজার ১২৫ গ্রাহকের বাড়িতে। চুরি হয়ে যাওয়ায় আমরা বাকি মিটার আর স্থাপন করিনি। এই খাতে আড়াই কোটি টাকার প্রায় পুরোটাই খরচ হয়ে গেছে। ’ তাঁর অভিযোগ, ‘আগে মিটার চুরি হলে গ্রাহকরা থানায় জিডি করতেন, আমাদের জানাতেন। এখন কেউ আর সেটি করেন না। ’



সাতদিনের সেরা