kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ২৮ জানুয়ারি ২০২২। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

নতুন জীবনে ফাল্গুনী

বরিশাল অফিস   

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন জীবনে ফাল্গুনী

বিয়ের আসরে ফাল্গুনী সাহা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ফাল্গুনী সাহার বয়স যখন পাঁচ বছর তখন তাঁর জীবনের অন্যতম বেদনাদায়ক ঘটনাটি ঘটে। বাড়ির ছাদে বিদ্যুতায়িত হয়ে আহত দুই হাতের বড় একটা অংশ বিচ্ছিন্ন করতে হয় তাঁকে। তবে তাঁর মনোবল ভাঙেনি। উচ্চশিক্ষা শেষ করে তিনি গত বুধবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন।

বিজ্ঞাপন

শারীরিক সমস্যার মধ্যেও ২০১১ সালে মাধ্যমিক, ২০১৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ২০১৮ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওলজি ও এনভায়রনমেন্ট বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করেছেন। প্রবেশ করেছেন কর্মজীবনেও।

ফাল্গুনী বসবাস করেন বরিশাল নগরীর বিএম কলেজ রোড এলাকায়। তাঁর বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা সদরে। বর্তমানে তিনি বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের বরিশাল শাখা অফিসের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কোডেক পটুয়াখালী শাখার মাঠ কর্মকর্তা সুব্রত মিত্রের সঙ্গে ফাল্গুনীর বিয়ে হয়েছে। গত বুধবার রাতে বরিশাল নগরীর শ্রীশ্রী শংকর মঠ মন্দির প্রাঙ্গণে এই বিয়ের আয়োজন করা হয়। বিয়েতে উপস্থিত অতিথিরা বর সুব্রত মিত্রের মনোভাবের প্রশংসা করেন।

শ্রীশ্রী শংকর মঠের সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব কর্মকার ভাষাই বলেন, ‘এই বিয়ে দেখে আমি অবাক হয়েছি। একটা মেয়ের দুটি হাত নেই, তাঁকে একটি ছেলে বিয়ে করেছেন। এমন মহানুভবতা দেখার সুযোগ হয়েছে আমাদের। আমার জীবদ্দশায় দেখিনি একজন দুই হাতহারা মেয়েকে এমন স্বাচ্ছন্দ্যে গ্রহণ করেছেন। আমরা সুব্রত মিত্রর হৃদয় কতখানি বড়, সেটা বুঝতে পেরেছি। সত্যিই আমরা অভিভূত। ’

ফাল্গুনী সাহা বলেন, ‘২০০২ সালে গলাচিপায় আমাদের পাশের বাড়ির ছাদে বসে বৈদ্যুতিক তারে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে দুই হাত বিচ্ছিন্ন হয়। আমি নিজেকে কখনো দুর্বল মনে করিনি। দুই হাতের যতটুকু অংশ ছিল, ততটুকু দিয়েই আমি আমার পড়াশোনা শেষ করেছি এবং এখন চাকরিও করছি। ’

ফাল্গুনী আরো বলেন, ‘আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি আর মানসিকতা ঠিক থাকলে প্রতিবন্ধকতা কোনো ব্যাপার নয়। আমাদের বিয়েটা দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করি। এ পর্যন্ত পৌঁছতে সবার আন্তরিকতা পেয়েছি। স্কুলজীবন থেকে কর্মজীবনে যাঁরা আমার সঙ্গে ছিলেন তাঁরা কেউ বুঝতে দেননি আমার দুটো হাত নেই। ’

ফাল্গুনীর বর সুব্রত মিত্র বলেন, ‘ফাল্গুনীকে আমি ছোটবেলা থেকে চিনি। ও যখন ভার্সিটিতে পড়ত, তখন ওর সঙ্গে আমার ফেসবুকে কথা হতো। একটা সময় বুঝতে পারি ও পড়াশোনায় অনেক ভালো করছে। তবে ওর ফ্যামিলি লাইফ বা সামনের দিকে আগানোর কোনো চিন্তা-চেতনা ছিল না। ওর হাত নেই, এটা আমার কাছে কোনো সমস্যা মনে হয়নি। একটা লোকের হাত নেই, তাই সে বিয়ে করতে পারবে না, তার ফ্যামিলি হবে না, এমনটা হতে পারে না এবং এমন চিন্তা আমারও নেই। আমি ওকে স্বপ্ন দেখাই, আমি ওকে ভালোবাসা শেখাই এবং আমি ওকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত জানাই। সব শেষ আমরা বিয়েও করেছি। আমরা সামনের দিনে যেন ভালো থাকতে পারি এর জন্য আমাদের সবাই আশীর্বাদ করবেন। ’

সুব্রত মিত্রের ছোট বোন শ্রাবন্তী মিত্র বলেন, ‘আর পাঁচটা বিয়ে যেমন হয়, এখানেও তেমনিভাবে বিয়ে হয়েছে। কোনো ঘাটতি নেই। বরং অন্য বিয়ের থেকে এই বিয়ে ভালোভাবে হয়েছে। অনেকেই বলতে পারেন যে একটা স্বাবলম্বী ছেলে দুই হাত ছাড়া একটি মেয়েকে বিয়ে করছে কীভাবে? আমি বলব, সবার মানসিকতা আমার ভাইয়ের মতো হওয়া উচিত। যাতে বিষয়টি উদাহরণ হয়ে থাকে। ’



সাতদিনের সেরা