kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

অবৈধভাবে স্বর্ণ আসা থামছে না

কাস্টমসের নজরদারি বাড়লে শুল্ক পরিশোধ করে স্বর্ণ আমদানি বাড়ে

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২৪ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শুল্ক পরিশোধ করে বৈধভাবে স্বর্ণের বার আমদানির সুযোগ দিয়েছে সরকার। এতে ভালো সাড়া মিলেছে, বিপুল রাজস্বও পাচ্ছে সরকার। এর পরও চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে অবৈধ স্বর্ণ আসা ঠেকানো যাচ্ছে না।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের হিসাব মতে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত (এর মধ্যে তিন মাস ফ্লাইট বন্ধ ছিল) সাড়ে ৩৬ কেজি অবৈধ স্বর্ণের বার ও স্বর্ণালঙ্কার ধরা পড়েছে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে।

বিজ্ঞাপন

আর ২০২০ সালের পুরোটা সময়ে অবৈধ স্বর্ণের বার ধরা পড়েছিল ৫০ কেজি। যদিও ২০২০ সালজুড়েই করোনা মহামারি থাকায় চার মাস আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ ছিল। কিন্তু দেখা গেছে, ওই বিমানবন্দর দিয়ে তুলনামূলকভাবে অবৈধ স্বর্ণের বার আসা কমেনি।

কাস্টমসের কড়াকড়ি বা নজরদারি বাড়ানো হলে বিমানবন্দর দিয়ে অবৈধ স্বর্ণ ধরা পড়ে। তখন সবাই বৈধভাবে শুল্ক পরিশোধ করেই স্বর্ণ আমদানির দিকে ঝোকেন। কাস্টমস শিথিল হলে ফের অবৈধভাবে স্বর্ণ আসা বেড়ে যায়।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে রাজস্ব বোর্ডের দুটি সংস্থা নজরদারি করে। একটি হচ্ছে কাস্টমস, আরেকটি শুল্ক গোয়েন্দা। চট্টগ্রাম শুল্ক গোয়েন্দা দলের উপকমিশনার এ কে এম সুলতান মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চোরাচালান ঠেকাতে আমরা সর্বোচ্চ নজরদারি করছি। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করেও অপরাধ ঠেকানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু শতভাগ সফল হই এমন বলা যাবে না। তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে। ’

তাহলে অবৈধ পথে স্বর্ণ আসা বন্ধ করা যাচ্ছে না কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘চোরাচালানচক্রও তাদের কৌশল পাল্টায়। আমরাও তো নাছোড়বান্দা। এ কারণে এখন তেমন ফ্লাইট না থাকা সত্ত্বেও গত দুই মাসে দুটি চোরাচালান আটক করেছি। ’

কাস্টমস বলছে, ২০২০ সালের পুরো বছরে বৈধভাবে অর্থাৎ শুল্ক কর পরিশোধ করে সোনার বার আমদানি হয়েছে দুই হাজার ৭১৫ কেজি। এর বিপরীতে সরকার শুল্ক পেয়েছে ৪৭ কোটি টাকা। ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এসেছে ছয় হাজার ১৭২ কেজি, অর্থাৎ আগের বছরের তিন গুণ। এই স্বর্ণ বৈধ করে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ১০৬ কোটি টাকা।

বৈধভাবে স্বর্ণ আমদানি তিন গুণ হওয়ার পরও অবৈধভাবে আমদানি কমেনি। কারণ কী জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপকমিশনার সুমন চাকমা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে স্বর্ণের চাহিদা আছে সুতরাং চোরাচালানচক্র চাইবে অবৈধভাবে শুল্ক ছাড়াই সোনা আনতে। কিন্তু আমরা সেটা যখন হতে দিই না তখন তারা বৈধভাবে স্বর্ণের বার নিয়ে আসে। ’

তাহলে বন্ধ করা যাচ্ছে না কেন—এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘চোরাচালানচক্র নিত্যনতুন কৌশল প্রয়োগ করে। আমরাও তাদের ধরতে কৌশল পাল্টাই। আমাদের নজরদারি বা কড়াকড়িতে কোনো শিথিলতা নেই। ’

একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা জানান, চোরাচালানচক্র সোনার বার আনে ঠিকই। উড়োজাহাজ থেকে নেমে কাস্টমসে পৌঁছার আগেই তারা এগুলো ভাগ করে নেয়, যাতে শুল্ক পরিশোধ করেই ছাড় নেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে তারা কাস্টমসের কড়াকড়ির বিষয়টি আগেভাগেই জানার চেষ্টা করে এবং তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্ত পাল্টায়।

জানা গেছে, দেশে বৈধভাবে সব স্বর্ণই ঢোকে বার আকারে, স্বর্ণালঙ্কার হিসেবে খুবই কম। এক পিস স্বর্ণের বারের ওজন ১১৭ গ্রাম। অর্থাৎ একটি বারের বাজারমূল্য ছয় লাখ টাকা। ২০২০ সালে এই বিমানবন্দর দিয়ে ২৩ হাজার ২৩৭ পিস স্বর্ণের বার ঢুকেছে। এর বাজারমূল্য দাঁড়ায় এক হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা।

২০২১ সালে ৫২ হাজার ৭৬০ পিস স্বর্ণের বার ঢুকেছে, যার ওজন ছয় হাজার ১৭২ কেজি। আর বাজারমূল্য দাঁড়ায় তিন হাজার ১৬৫ কোটি টাকা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ব্যাগেজ রুলের আওতায় একজন যাত্রী বিদেশ থেকে ফেরার সময় ঘোষণা দিয়ে সর্বোচ্চ ২৩৪ গ্রাম ওজনের অর্থাৎ দুটি স্বর্ণের বার নিয়ে আসতে পারেন। এর বিপরীতে ৪০ হাজার ১২৪ টাকা শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। এর বাইরে ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার বিনা শুল্কে আনতে পারবেন।

জুয়েলারি সমিতি চট্টগ্রামের সভাপতি মৃণাল কান্তি ধর বলেন, ‘আমার ৪২ বছরের জুয়েলারি ব্যবসায় কোনো ব্যবসায়ী চোরাচালান করেছেন বা অবৈধ সোনার ব্যবসা করে ধরা পড়েছেন এমনটা দেখিনি। চোরাচালান ঠেকাতে আমরা কাস্টমসে কড়াকড়ি চাই, যাতে শুল্ক ফাঁকি ছাড়া কোনো স্বর্ণ ঢুকতে না পারে। ’ তিনি বলেন, ‘বৈধ স্বর্ণ আমদানিতে আমরা ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করছি। ’



সাতদিনের সেরা