kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি

লাখ টাকায় ৬ বার প্রশ্ন ফাঁস করে ওরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সরকারি পাঁচ ব্যাংকে সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে উত্তর বিক্রির অভিযোগে আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক দেলোয়ার হোসেন (৩১), পারভেজ মিয়া (২৯) ও তাঁদের সহযোগী রবিউল আউয়ালকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত বুধবার রাতে রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকা থেকে দেলোয়ার ও রবিউলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহাখালী থেকে পারভেজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনজনই ঢাকার মহানগর হাকিম আদালকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

ডিবির তদন্তকারীরা সূত্র জানিয়েছে, চক্রের মূল হোতা দেলোয়ার লাখ টাকার চুক্তিতে প্রশ্ন ফাঁস করতেন। কয়েকজনের সঙ্গে যোগসাজসে ছয়বার প্রশ্ন ফাঁস করেছেন তিনি।

এদিকে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় নিজ কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিসিটিভি অপারেটর নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে দুইজন যুগ্ম পরিচালককে বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল রাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্স বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়।

গত রাতে ডিবির তেজগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শাহাদত হোসেন সুমা বলেন, আগে পাঁচ ব্যাংকারসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনজনকে নিয়ে ১১ জন গ্রেপ্তার করা হলো। দেলোয়ার এই ঘটনার অন্যতম হোতা। ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে দেলোয়ার জানান, ২০১৬ সালের নভেম্বরে আহছান উল্লার ট্রেজারার কাজী শফিকুল ইসলামের অফিসে পিয়ন হিসেবে যোগ দেন। কয়েক মাস পর জানতে পারেন ব্যাংকসহ বিভিন্ন চাকরি পরীক্ষার প্রশ্ন্ন ছাপা ও পরীক্ষার দরপত্র পায় আহছান উল্লা। ট্রেজারার পরীক্ষা কমিটিতে থাকার কারণে তাঁকে প্রশ্ন ছাপার বিভিন্ন কাজে নেওয়া হতো। এ কাজে তিনি নিয়মিত আশুলিয়ার প্রেসে যেতেন। টেকনিশিয়ান মোক্তারুজ্জামান রয়েল ও ল্যাব সহকারী পারভেজ মিয়া তাঁকে এই কাজে যুক্ত করেন। সহযোগীরা দেলোয়ারকে ৫০ হাজার করে টাকা দেন। তাঁদের সঙ্গে শ্যামল নামের এক ব্যাংকারও ছিলেন।

এদিকে গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাখ্যায় বলা হয়, প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আহছান উল্লার তত্ত্বাবধানে আরো দুটি নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত এবং বিশ্ববিদ্যালয়টিকে পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে কালো তালিকাভুক্ত করার কথা জানানো হয়।



সাতদিনের সেরা