kalerkantho

রবিবার । ৯ মাঘ ১৪২৮। ২৩ জানুয়ারি ২০২২। ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আজ

পিছু ছাড়েনি পুরনো সংকট

মাসুদ রানা   

২০ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পিছু ছাড়েনি পুরনো সংকট

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল দেড় দশক আগে ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর। সেই থেকে কেটে গেছে প্রায় দেড়যুগ। আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ১৭তম বর্ষে পদার্পণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এখনো নানা সমস্যা-সংকটে অনেকটা জেরবার এ শিক্ষায়তন।

বিজ্ঞাপন

তবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রাক্কালে সমস্যা ঝেড়ে ফেলে সম্ভাবনাময় আগামীর কথাই শোনাচ্ছেন উপাচার্য ড. মো. ইমদাদুল হক। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি সম্ভাবনাময়, আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার পথেই এগিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি তাঁর।

আবাসন ও শ্রেণিকক্ষের সমস্যা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো সমস্যা। এসব সমস্যার সমাধানে সম্প্রতি কেরানীগঞ্জে নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভূমি অধিগ্রহণ ছাড়া কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। অন্যদিকে অর্জনের মধ্যে রয়েছে ২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি সফলভাবে সমাবর্তন আয়োজন এবং বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল উদ্বোধন। অবশ্য বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল গত বছরের ২০ অক্টোবর উদ্বোধন করা হলেও কবে নাগাদ মেয়ে শিক্ষার্থীরা হলে উঠবেন তা অনিশ্চিত। বর্তমান উপাচার্য যোগ দেওয়ার পর গবেষণা খাতে জোর দিয়ে এর বাজেট গতবারের চেয়ে দ্বিগুণ করে দিয়েছেন। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও গবেষণা শিল্প পরিষদের (বিসিএসআইআর) সঙ্গে একটি চুক্তিও করেছেন, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সহজে গবেষণা করতে পারেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু তিন বছর চলে গেলেও ভূমি অধিগ্রহণ ছাড়া অন্য কোনো কাজের অগ্রগতি নেই। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৫-এ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) বিষয়ে কোনো উল্লেখ ছিল না।   শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে আইনে ধারা বা উপধারা সংযোজন ও ‘জকসু’র গঠনতন্ত্র প্রণয়নে কমিটি করা হয়। এ নিয়েও তেমন অগ্রগতি নেই।

উপাচার্য থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও ছাত্রদের জন্য কোনো ধরনের আবাসনের ব্যবস্থা নেই। আছে শ্রেণিকক্ষসংকট। একটি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ক্লাস করলে অন্য ব্যাচের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে দুই শিফট চালুর দাবি করা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এ বিশ্ববিদ্যালয় একসময় ছিল ব্রাহ্মসমাজের চালু করা বিদ্যালয়। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ১৮৫৮ সালে এর যাত্রা শুরু হয়। ১৮৭২ সালে এর নাম বদলে রাখা হয় জগন্নাথ স্কুল। পরে তা একে একে কলেজ এবং কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে (১৯৪৯ সালে) রূপান্তরিত হয়।

আজ বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হলেও এদিন ছুটি থাকায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বল্প পরিসরে ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হবে।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি প্রকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপ দিতে কাজ করছি। গবেষণা খাতে বাজেট গতবারের দ্বিগুণ করেছি। লাইব্রেরি, আইসিটি, কম্পিউটার কেনার ক্ষেত্রে বাজেট বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও গবেষণা শিল্প পরিষদের (বিসিএসআইআর) সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। ’ উপাচার্য আরো বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যাতে সহজে গবেষণা করতে পারেন সে জন্য শিগগিরই পরমাণু শক্তি কমিশন, ঢাবি ও বুয়েটের সঙ্গে চুক্তি করা হবে। করোনার ব্যাপকতার সময়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া, টিকাকেন্দ্র স্থাপন ও ঈদে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব পরিবহনে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার মতো বিভিন্ন কার্যক্রমের কথাও উল্লেখ করেন উপাচার্য। সবশেষে তাঁর ভাষ্য, ‘যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন হয় এবং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয় সেই প্রত্যাশা নিয়ে কাজ করে যাব। ’



সাতদিনের সেরা