kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

আরো আকর্ষণীয় করতে সংস্কার করা হচ্ছে জাতীয় সংসদ ভবন

♦ সরিয়ে ফেলা হচ্ছে কাঠের তৈরি কক্ষগুলো
♦ নেওয়া হয়েছে ২৩৩ কোটি টাকার প্রকল্প

নিখিল ভদ্র   

৯ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আরো আকর্ষণীয় করতে সংস্কার করা হচ্ছে জাতীয় সংসদ ভবন

জাতীয় সংসদ ভবন সংস্কারের পাশাপাশি ভবনের অভ্যন্তরে নির্মিত কাঠের কক্ষগুলো সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। ভবনটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে ২৩৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।

সূত্র মতে, জাতীয় সংসদ ভবন নির্মাণের পর (১৯৮২) দীর্ঘদিন বড় ধরনের কোনো সংস্কারকাজ হয়নি। অন্যদিকে নকশার বাইরে সংসদ ভবনের ভেতরে-বাইরে অনেক স্থাপনা নির্মাণ করায় ঠিকভাবে আলো-বাতাস প্রবাহিত হতে পারছে না। কাঠের পার্টিশন দিয়ে তৈরি করা সংসদ সচিব, সংসদীয় কমিটির সভাপতিদের একান্ত সচিবসহ অন্য কর্মকর্তাদের কক্ষগুলো সংসদ ভবনের সৌন্দর্য কমিয়েছে। বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ভবনটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কাঠের তৈরি কক্ষগুলো সরিয়ে ফেলার পাশাপাশি সংস্কারের জন্য ২৩৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় গত বছর থেকে সংসদ ভবন, সংসদ সদস্য ভবন, এমপি হোস্টেলসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৩ সালের জুন মাসে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। প্রকল্পের আওতায় সংসদ সদস্য ভবনগুলোর টাইলস পরিবর্তন, কেবিনেট, এলইডি, ইন্টারকম ও অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা হচ্ছে। সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর লবি আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এমপি হোস্টেলের এলডি-২ (কমিউনিটি সেন্টার) ও এলডি-৩ (পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাব)-এর আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে এলডি হলে এসি ও লিফট সংযোজনের পাশাপাশি ওই এলাকায় ৫০০ কেভিএ সাবস্টেশন এবং ২৫০ কেভিএ জেনারেটর স্থাপন করা হয়েছে।

জানা গেছে, সংসদ ভবন এলাকায় মনিপুরীপাড়ার খেজুর বাগানের পাশে গণপূর্ত কর্মচারী ও জাতীয় সংসদ ভবনের নিরাপত্তারক্ষীদের জন্য ৯ তলা দুটি ভবন নির্মাণ করা হবে। সংসদ ভবনের উত্তর প্লাজায় ৩৬ হাজার স্কয়ার ফিট জায়গায় অফিসকক্ষ নির্মাণ করা হচ্ছে। ১৯৮৪ সালে উত্তর প্লাজা নির্মিত হওয়ার পর দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় লাল ইটের স্থায়িত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে উত্তর ও দক্ষিণ প্লাজার উপরিতলের পুরাতন সিরামিক ইট ও মার্বেল পাথর অপসারণ করে নতুন সিরামিক ইট ও মার্বেল পাথর প্রতিস্থাপন করা হবে। এ ছাড়া সংসদ ভবনের বিভিন্ন প্রবেশ পথে অভ্যর্থনা কক্ষসহ সেন্ট্রিপোস্ট নির্মাণ, সংসদ সদস্য ভবনগুলোয় কার পার্কিং শেড নির্মাণ, উত্তর প্লাজার নিচে সংসদ ভবনের বিভিন্ন শাখার অফিসকক্ষে বৈদ্যুতিক ফিটিংস স্থাপন করা হবে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্যশৈলী আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন। ভবনটিকে নতুন করে সাজাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে মূল নকশা আনা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনা অনুযায়ী ভবনটিকে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে।’

সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী জানান, সংসদ ভবনকে সাজানোর পাশাপাশি সংসদ ভবনের পরিবেশ উন্নয়নে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সংস্কারকাজ চলছে।

সংসদ ভবনের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. রোকন উদ্দিন বলেন, ‘সংস্কারের অভাবে সংসদ ভবনের সৌন্দর্য কিছুটা ম্লান হয়েছিল। আমরা তা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছি। নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকল্প বাস্তবায়নকাজ শেষ হবে বলে আশা করছি।’

রাজধানীর শেরেবাংলানগরে ২১৫ একর জায়গাজুড়ে স্থাপিত জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৮২ সালের ২৮ জানুয়ারি। আর সংসদ ভবন ব্যবহার শুরু হয় একই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় সংসদের অষ্টম ও শেষ অধিবেশনের মাধ্যমে।



সাতদিনের সেরা