kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তীচ্ছুদের ঢাকা ফেরা

টিকিট কেটেও ঠাঁই নেই রেলস্টেশনে ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার শেষ দিন। তাই রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী পদ্মা এক্সপ্রেস আন্ত নগর ট্রেনে দেওয়া হয়েছিল অতিরিক্ত স্ট্যান্ডিং টিকিট। অতিরিক্ত টাকা নিয়ে এসব টিকিট দেওয়া হয় বলে অভিযোগ যাত্রীদের। অথচ সেই ট্রেন গতকাল বুধবার বিকেল ৪টায় যখন ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়, তখনো প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিল প্রায় এক হাজার টিকিটধারী যাত্রী।

বিজ্ঞাপন

ট্রেনে জায়গা না থাকায় টিকিট কেটেও তারা ঢাকায় ফিরতে পারেনি।

ঢাকায় ফিরতে না পেরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা পরে স্টেশনেই বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তাঁরা রেলস্টেশনের ফটক বন্ধ করে ভাঙচুর করতে থাকেন। এতে স্টেশনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ওই যাত্রীদের ঢাকায় ফেরার জন্য বিকল্প ট্রেনের ব্যবস্থা করে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, স্টেশনের বুথের পাশাপাশি অনলাইনে প্রায় দেড় হাজার অতিরিক্ত যাত্রী স্ট্যান্ডিং টিকিট কাটেন। এ ছাড়া টিসিরা সিটবিহীন অতিরিক্ত টিকিট দেন। ট্রেনের ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি টিকিট বিক্রি করা হয়। তাই টিকিট কেটেও তাঁরা ট্রেনে উঠতে পারেননি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, টিকিট কেটেও ট্রেনে উঠতে না পেরে ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থীরা রেলস্টেশনে ভাঙচুর চালান। টিসি অফিসও ঘেরাও করে রাখেন। পরে অন্য ট্রেনের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক মিহির কান্তি গুহ। তখন পরিস্থিতি শান্ত হয়।

রেলওয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে, সব মিলিয়ে আন্ত নগর পদ্মা এক্সপ্রেসের আসনসংখ্যা ৮০০-এর মতো। আন্ত নগর ট্রেনে সাধারণত স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া হয় না, কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার কারণে গতকাল স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া হয়। ওই ট্রেনে সর্বোচ্চ ৪০০ থেকে ৫০০ স্ট্যান্ডিং যাত্রী যেতে পারবে।

 টিকিট অতিরিক্ত হওয়ায় একসঙ্গে চাপ পড়েছে। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর খুলনা থেকে ঢাকাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেসে ১০৬টি আসনের একটি অতিরিক্ত কোচ লাগানো হয়েছে। সন্ধ্যায় রাজশাহী থেকে ঈশ্বরদীগামী কমিউটার ট্রেনে ঈশ্বরদী স্টেশনে গিয়ে খুলনা থেকে আসা ওই ট্রেনে যাত্রীদের ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক মিহির কান্তি গুহ বলেন, রাবির ভর্তি পরীক্ষার জন্য হাজার হাজার শিক্ষার্থী ট্রেনযোগে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রাজশাহীতে আসেন। গতকাল পরীক্ষার শেষ দিনে তাঁরা আবার বাড়ি ফিরতে শুরু করেন। এতেই ট্রেনে উপচে পড়া ভিড় হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এক ট্রেনে কত স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া হয়েছিল, তাত্ক্ষণিকভাবে তা তিনি জানাতে পারেননি।



সাতদিনের সেরা