kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

নরসিংদীতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার ৯

আশুলিয়া ও আড়াইহাজারে লুটপাটের স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার ও নরসিংদী প্রতিনিধি   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীর উপকণ্ঠ আশুলিয়া থানার নয়ারহাট বাজারে ১৭টি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ ডাকাত ধরা পড়েছে। গত শুক্রবার রাতে নরসিংদী সদর থানার বেড়িবাঁধ এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। আন্ত জেলা ডাকাতদলের এই সদস্যরা নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে স্বর্ণের তিন দোকানে ডাকাতির কথাও স্বীকার করেছেন।

নরসিংদী জেলা ডিবি পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ আবুল বাসার ও আশুলিয়া থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

নরসিংদী জেলা ডিবির এসআই আমিনুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একটি সি-বোট নিয়ে ১৪ থেকে ১৫ জন ডাকাত গুলি করতে করতে পালিয়ে যান। এ সময় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে স্বর্ণ বিক্রির নগদ দুই লাখ ৪৫ হাজার টাকাসহ দুটি বিদেশি পিস্তল, গুলি, কাটার, দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র এবং একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন শরীয়তপুরের জাজিরা থানার কুণ্ডেরচর গ্রামের আনোয়ার হোসেন দেওয়ান ও কান্দি গ্রামের দেলোয়ার হোসেন খলিফা, মাদারীপুর সদরের বলাইচর গ্রামের কামাল খাঁ ও খবির হাওলাদার, কালকিনি থানার নতুনচর দৌলতখান গ্রামের খালেক হাওলাদার, বরিশালের বানারীপাড়া থানার ব্রাহ্মণকাঠি গ্রামের আল মিরাজ ওরফে মিন্টু, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার বন্দকাউলজানি গ্রামের রহিম মিয়া, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার লক্ষ্মীপুর গ্রামের কবির হোসেন ও ঝাউকান্দি (নিরাতকান্দা) গ্রামের রহিম মিয়া। তাঁদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মাদক, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

আশুলিয়া থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ৯ ডাকাতকে রবিবার আশুলিয়া থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এই ৯ জন আশুলিয়ার নয়ারহাট বাজারে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত বলে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন।

নরসিংদী জেলা ডিবি পরিদর্শক মোহাম্মদ আবুল বাসার জানান, ডাকাতদলটিকে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা নয়ারহাট ও গোপালদী বাজারে স্বর্ণ ডাকাতির কথা স্বীকার করেছেন। নয়ারহাটে এই ডাকাতদলের ২৫ থেকে ৩০ জন সদস্য ছিলেন। এই দলের সদস্যরা মূলত মাদারীপুর ও শরীয়তপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ডাকাতির প্রস্তুতি মামলা করে তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ইনামুল হক সাগর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল শনিবার বলা হয়, শুক্রবার রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি আবুল বাসারের নেতৃত্বে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। নরসিংদী পৌর এলাকার পায়রা চত্বরে অবস্থানকালে গোয়েন্দা পুলিশ জানতে পারে যে পূর্ব দত্তপাড়া এলাকার পুরাতন লঞ্চঘাটসংলগ্ন বেড়িবাঁধের ওপর একদল দুষ্কৃতকারী ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। পুলিশ সেখানে উপস্থিত হলে ২৪ থেকে ২৫ জনের ডাকাতদল টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা চার রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। এ সময় ৯ ডাকাতকে আটক করা হয়। তাঁরা আন্ত জেলা  ডাকাতদলের সদস্য।

প্রসঙ্গত, গত ৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে নৌযানযোগে আশুলিয়ার নয়ারহাটে ১৭টি স্বর্ণের দোকান লুট করে ডাকাতদল। এর আগে গত ৩১ আগস্ট রাতে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার গোপালদী বাজারে তিনটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। তার পর থেকে ডাকাতদের গ্রেপ্তারে তৎপর ছিল পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।



সাতদিনের সেরা