kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

নতুন অভিজ্ঞতা শিক্ষকদের

অনলাইন ক্লাস

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা মহামারির আগে ‘অনলাইন ক্লাস’ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভাবনাতেই ছিল না। তবে গেল দেড় বছরে তথ্য-প্রযুক্তিতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছে বাংলাদেশ। শিক্ষকরা এখন খুব সহজেই জুমসহ নানা মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস নিচ্ছেন। যেকোনো অ্যাসাইনমেন্ট সামাজিক যোগাযোগের নানা মাধ্যমে আদান-প্রদান করছেন। এমনকি অনলাইনে পরীক্ষাও নিচ্ছেন, যা উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বাংলাদেশের শিক্ষকদের জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা।

জানা যায়, গেল বছরের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পর মার্চের শেষ দিক থেকেই সংসদ টেলিভিশনে ক্লাস সম্প্রচার শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। তবে সেই ক্লাসগুলো খুব একটা আলো ছড়াতে পারেনি। এরপর মূলত মে মাস থেকে অনলাইন ক্লাসের যাত্রা, যা ধীরে ধীরে সব শিক্ষকের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অনেক স্কুলই অনলাইন ক্লাসের আওতায় চলে আসে।

জানতে চাইলে রাজধানীর মিরপুরের সিদ্ধান্ত হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম রনি বলেন, ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে, অনলাইন ক্লাস তারই প্রমাণ। শিক্ষাব্যবস্থা ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের দিক দিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। করোনার আগে আমরা জানতামই না, অনলাইন ক্লাস কী? অনেক শিক্ষক নিজেরাই শিখে ফেললেন। তবে স্কুলের পক্ষ থেকেও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। কিন্তু সেখানে দেখা যায়, দু-একজন ছাড়া সব শিক্ষকই অনলাইন ক্লাসের প্রক্রিয়া শিখে ফেলেছেন।’ এই শিক্ষক আরো বলেন, ‘রবিবার থেকে সরাসরি ক্লাস শুরু হলেও পাশাপাশি আমাদের অনলাইন ক্লাসও চলবে। অনেক শিক্ষককে স্কুলে থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস নিতে হবে। তাতেও তেমন কোনো সমস্যা হবে না। কারণ শিক্ষকরা এরই মধ্যে অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছেন।’

রাজধানীর মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজির সিনিয়র শিক্ষক মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘করোনায় যখন স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে গেল তখন আমরা নিজেরাও শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম। যখন অনলাইন ক্লাস শুরু হলো তখন শুধু আমি নই, আমাদের সব শিক্ষকই তা আত্মস্থ করতে উদ্বুদ্ধ হলেন। এ ছাড়া স্কুল থেকেও আমাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হলো। ফলে আমরা জুমের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস নিতে থাকলাম। শুরুতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ কম থাকলেও পড়ে তা বাড়তে থাকে।’

চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষক মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘করোনার আগে আমরা জানতামই না অনলাইন ক্লাস কী? স্কুল থেকে আমাদের অনলাইন ক্লাস শুরু করার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করেছেন। আমরা নিজেরাও চেষ্টা করেছি। শুরুতে কিছুটা জড়তা থাকলেও, পরে ঠিক হয়ে গেছে। মূলত নিজের বাসাকেই একটি অনলাইন ক্লাসরুম বানিয়ে ফেলেছি।’

জানা যায়, আজ রবিবার থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও এ বছর ও আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সপ্তাহের ছয় দিন স্কুল-কলেজে যাবে। বাকি শিক্ষার্থীরা যাবে সপ্তাহে এক দিন। তাই এসব শ্রেণিতে অনলাইন ক্লাসও চালু থাকবে। সরাসরি ও অনলাইন ক্লাসগুলো মিলিয়েই স্কুলগুলো এরই মধ্যে নতুন রুটিন প্রকাশ  করেছে।



সাতদিনের সেরা