kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

শিশু আদালত বন্ধ, বঞ্চনার শিকার বিচারপ্রার্থীরা

নিখিল ভদ্র   

৭ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানায় চার শিশুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা বাতিল এবং বাকেরগঞ্জ থানার ওসি মো. আবুল কালামসহ সাত পুলিশ সদস্য ও সমাজসেবা কর্মকর্তাকে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. এনায়েত উল্লাহর ফৌজদারি বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাহার করে তাঁকে দেওয়ানি মামলার দায়িত্ব দিতে বলা হয়েছে। গত ১৩ জুন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।  

অন্যদিকে বাল্যবিয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় দুই শিশুকে সাজা দেওয়ার ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজিয়া সুলতানার কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন হাইকোর্ট।

বিজ্ঞাপন

ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করে গত ৫ আগস্ট বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ ব্যাখ্যা চান।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে শিশু আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘদিন বিচারকাজ বন্ধ থাকায় এক হাজারের বেশি বিচারপ্রার্থী শিশু আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদ্যমান আইনে ১৮০ দিনের মধ্যে শিশুদের মামলা নিষ্পত্তির বিধান থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। সাধারণ আদালতে শিশু আসামিদের জামিন শুনানিতে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থায় শিশু আদালতের বিচারকাজ ভার্চুয়ালি চালুর সুপারিশ করেছেন আইনজীবী ও শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা।

শিশু আইন-২০১৩ অনুযায়ী, শিশুদের কারাগারে না পাঠিয়ে উন্নয়নকেন্দ্রে পাঠানো হয়। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও শিশু আইন অনুযায়ী, শিশুর বিচার হবে শুধু শিশু আদালতে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশু আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সেটা সম্ভব হচ্ছে না। বিচারের অপেক্ষায় থাকা শিশুদের অনেকে লঘু অপরাধে অভিযুক্ত। বিচারকাজ চললে তাদের বেশির ভাগ খালাস পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারত।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে গাজীপুরের টঙ্গী ও কোনাবাড়ী এবং যশোরে একটিসহ তিনটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র রয়েছে। যেখানে সহস্রাধিক শিশু বন্দি রয়েছে। দেশজুড়ে ভার্চুয়াল বিচারিক আদালত প্রতি কার্যদিবসে বিভিন্ন অপরাধে আটক শিশুদেরও উন্নয়নকেন্দ্রে পাঠাচ্ছে। এতে কেন্দ্রগুলোর ওপর প্রবল চাপ পড়ছে। উন্নয়নকেন্দ্রে থাকা শিশুদের বিরুদ্ধে মামলার পর সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে শতাধিক মামলা। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে শিশু আদালত বন্ধ থাকায় এসব মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে না।

শিশুর অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা কেএনএইচ জার্মানির কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মুকুল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দ্রুত বিচার পাওয়া শিশুসহ সবার মৌলিক অধিকার। আবার বিচারের এক দিনের বেশি কাউকে জেলে বা উন্নয়নকেন্দ্রে আটকে রাখা মানবাধিকারের লঙ্ঘন। শিশু আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনেক শিশু অধিকারবঞ্চিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থায় শিশু আদালতের কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। ’

তবে সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং জাতিসংঘের শিশু উন্নয়ন ও নিরাপত্তা সংস্থা ইউনিসেফের সহায়তায় সুপ্রিম কোর্ট স্পেশাল কমিটি ফর চাইল্ড রাইটস (এসসিএসসিসিআর) করোনাকালে আইনের সংস্পর্শে আসা শিশুদের জামিনের উদ্যোগ নেয়। এই উদ্যোগের ফলে ভার্চুয়াল আদালতে এক হাজার ১৬০ শিশু জামিন পেয়েছে।

একইভাবে শিশুদের বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় বিশেষ ব্যবস্থায় ভার্চুয়ালি শিশু আদালতের বিচার কার্যক্রম চালানো যেতে পারে বলে মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ এম জামিউল হক ফয়সাল। তিনি বলেন, ‘বিচারকাজ বন্ধ থাকায় শিশুরা পরিবার, শিক্ষা ও সামাজিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে শিশু আইনে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার কাজ শেষ করার ও সাধারণ আসামিদের সঙ্গে শিশুদের না রাখার বিধান লঙ্ঘিত হচ্ছে। ভার্চুয়াল আদালতে শিশুদের বিচারকাজ চালানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানাই।

স্ট্রিট চিলড্রেন অ্যাক্টিভিস্টস নেটওয়ার্কের (স্ক্যান) সভাপতি জাহাঙ্গীর নাকির বলেন, ‘করোনাকালে উন্নয়নকেন্দ্রের আবদ্ধ পরিবেশে বন্দি শিশুরা অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে। তারা নানা ধরনের অপ্রীতিকর ও সহিংস ঘটনা ঘটাচ্ছে। ভার্চুয়ালি শিশু আদালতের বিচারকাজ চালানো গেলে এ পরিস্থিতি এড়ানো যেত। ’



সাতদিনের সেরা