kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

খুলনার সীমান্তঘেঁষা জেলাগুলোতে করোনায় মৃত্যু বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা   

৬ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খুলনা বিভাগে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার আগের চেয়ে কমছে। তবে সীমান্ত জেলাগুলোয় এখনো করোনার দাপট চলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় নতুন ৮১৭ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই বিভাগে করোনায় মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৫৫৪ জন।

গতকাল দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. জসিম উদ্দিন হাওলদার জানান, খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮১৭ জনের নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এই সময় মারা গেছে ৩৪ জন। এর মধ্যে সীমান্তঘেঁষা কুষ্টিয়া জেলায় মৃতের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৯ জন। এরপর রয়েছে সীমান্তঘেঁষা যশোরে ছয়জন, মেহেরপুর ও খুলনায় চারজন করে, মাগুরা ও ঝিনাইদহে তিনজন করে, বাগেরহাট ও নড়াইলে দুজন করে, আর চুয়াডাঙ্গায় একজন।

খুলনা বিভাগের চলমান করোনার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিভাগের সীমান্তের জেলাগুলোর মধ্যে এ পর্যন্ত কুষ্টিয়ায় ৫৯৮, যশোরে ৩৭৪, ঝিনাইদহে ২১৭, চুয়াডাঙ্গায় ১৭২, মেহেরপুরে ১৫০ আর সাতক্ষীরায় ৮৫ জন মারা গেছে।

করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছে ৯৭ হাজার ৬৯৩ জন। এর মধ্যে মারা গেছে দুই হাজার ৫৫৪ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৭৫ হাজার ৩২০ জন।

খুলনা জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৪ হাজার ৫১৪ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৬৫৭ জন এবং সুস্থ হয়েছে ১৯ হাজার ১২০ জন। মৃতের সংখ্যায় এর পরই রয়েছে সীমান্তঘেঁষা কুষ্টিয়া জেলা।

খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকাসহ এই জেলায় এ পর্যন্ত মারা গেছে ৫৯৮ জন। এই জেলায় এ পর্যন্ত মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৫০২ জনের। সুস্থ হয়েছে ১১ হাজার ৮০৩ জন। এরপর রয়েছে যশোর জেলা। সেখানে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৩৭৪ জন। মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৪৩২ জনের। সুস্থ হয়েছে ১৫ হাজার ৯৮৩ জন। ঝিনাইদহে এ পর্যন্ত মারা গেছে ২১৭ জন। করোনা শনাক্ত হয়েছে আট হাজার ৪৬ জনের। সুস্থ হয়েছে চার হাজার ৯৯৮ জন। চুয়াডাঙ্গায় এ পর্যন্ত মারা গেছে ১৭২ জন। করোনা শনাক্ত হয়েছে ছয় হাজার ২০৮ জনের। সুস্থ হয়েছে চার হাজার ৩৪৪ জন। মেহেরপুরে মারা গেছে ১৫০ জন। মোট শনাক্ত হয়েছে চার হাজার ৭৩ জনের। সুস্থ হয়েছে তিন হাজার ৩৪৪ জন।

বাগেরহাট জেলায় মারা গেছে ১২৯ জন। মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ছয় হাজার ২৯৬ জনের। সুস্থ হয়েছে পাঁচ হাজার ৪৩০ জন। নড়াইলে মারা গেছে ৯৬ জন। মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে চার হাজার ৩২৯ জনের। সুস্থ হয়েছে তিন হাজার ৩৯৬ জন। সাতক্ষীরায় মারা গেছে ৮৫ জন। মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে পাঁচ হাজার ৯১৮ জনের। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে চার হাজার ৬৯৩ জন। মাগুরায় মারা গেছে ৭৬ জন। শনাক্ত হয়েছে তিন হাজার ৩৭৫ জনের। সুস্থ হয়েছে দুই হাজার ২০৯ জন।

বিএমএ খুলনা জেলা শাখার সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, সীমান্ত জেলাগুলোর বাসিন্দাদের যোগাযোগ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বেশি থাকায় এখানে ডেল্টা ভেরিয়েন্টের সংক্রমণ বেশি ছড়িয়েছে। যে কারণে মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গার মতো কম অধিবাসীর জেলায় মৃত্যুসংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। অবশ্য যেসব রোগী হাসপাতাল পর্যন্ত এসেছে, তার ভিত্তিতে এই সংখ্যা। অনেক রোগী গ্রামে থেকেই মারা গেছে, এই হিসাবে তারা আসেনি।



সাতদিনের সেরা