kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

ঢাকা দক্ষিণের মহাপরিকল্পনা

যেভাবে ৩০ বছরে বদলে যাবে ঢাকা

শম্পা বিশ্বাস   

৪ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানী ঢাকাকে ঢেলে সাজাতে ৩০ বছরের মহাপরিকল্পনা নিচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এই মহাপরিকল্পনা করার জন্য সম্প্রতি দুটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগও করেছে সংস্থাটি। নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের উন্নয়ন, কামরাঙ্গীর চরে মতিঝিলের বিকল্প বিজনেস হাব, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, রাস্তাঘাটের ব্যবস্থাপনা, খালের উন্নয়নসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে করা হচ্ছে এই মহাপরিকল্পনা।

২০৫০ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ ঢাকার উন্নয়নে কী কী করা হবে সেটারই নকশা থাকবে এই মহাপরিকল্পনায়। এর মধ্যেই ডিএসসিসি এই মহাপরিকল্পনা তৈরির জন্য যৌথভাবে নিয়োজিত করেছে ডিজাইন ডেভেলপমেন্ট কনসালট্যান্ট লিমিটেড এবং সাতত্ত্ব আর্কিটেক্টকে। ৩০ বছর মেয়াদি ‘মাস্টারপ্ল্যান ফর ঢাকা সিটি’ প্রণয়নে গত ২৪ জুন এই দুই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। প্রতিষ্ঠান দুটি এখন থেকে প্রতিবছরের করণীয় নির্ধারণ করে দেবে সিটি করপোরেশনকে।

স্থপতি রফিক আজমকে প্রধান করে মোট ২৮ জনের বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করবে এই মহাপরিকল্পনা তৈরির কাজে। এর মধ্যে স্থপতি, নগর পরিকল্পনাবিদ, ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট, পরিবেশবিদ, কৃষিবিদ, পানি বিশেষজ্ঞ আছেন। এ ছাড়া আরো ৪০০ সহকারী যুক্ত থাকবেন এ কাজের সঙ্গে। যদিও এখানে সিটি করপোরেশনের কোনো কর্মকর্তা থাকবেন না। পুরো মহাপরিকল্পনার কাজ করবে নিয়োগপ্রাপ্ত এই দুই প্রতিষ্ঠান। ছয় কোটি ৩৫ লাখ টাকায় এই দুই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এক বছর মেয়াদে চুক্তি হয়েছে ঢাকা দক্ষিণের। গত জুন থেকে শুরু হয়েছে এর মেয়াদকাল। ডিএসসিসি বলছে, এখন থেকে দক্ষিণ সিটি যেসব উন্নয়নকাজ করবে সেগুলো এই মহাপরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত হবে।

ডিএসসিসি বলছে, রাজধানী ঢাকাকে বাসযোগ্য এবং উন্নত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আশি এবং নব্বইয়ের দশকে দুবার মহাপরিকল্পনা নিয়েছিল তৎকালীন ঢাকা সিটি করপোরেশন (অবিভক্ত)। তবে সেই পরিকল্পনা আলোর মুখ দেখেনি। আলোচনার টেবিলেই থেমে গেছে উন্নত ঢাকার স্বপ্ন। ফলে নতুন করে এই উদ্যোগ নিয়েছে ডিএসসিসি।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন থেকে ঢাকা দক্ষিণ যত প্রকল্প বা কাজ করবে সেগুলো এই মহাপরিকল্পনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে। এর বাইরে কিছুই করা হবে না। প্রতিটি বড় শহরের জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান লাগে। এটা হচ্ছে ঢাকার জন্য সেই মাস্টারপ্ল্যান। এখানে আমরা শহরের জন্য প্রয়োজনীয় সব বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করব। যেমন—বিগত ৬০ বছরের ইতিহাসে ঢাকায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে ১৮৩ মিলিমিটার। ফলে আমরা এই মহাপরিকল্পনায় ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত ধরে সেই জলাবদ্ধতা দূরীকরণের বিষয়ে নকশা করব। আবার আরো মানুষ বাড়লে সেই বর্ধিক জনসংখ্যার জন্যও আমাদের ভাবনা থাকবে এই মহাপরিকল্পনার মধ্যে।’

যদিও নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, একটি শহরের মহাপরিকল্পনার জন্য ১২ মাস যথেষ্ট সময় নয়। এর জন্য আরো সময়ের প্রয়োজন। এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ আকতার মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, এত বড় পরিকল্পনার জন্য এক বছর খুব কম সময়। কাজটি সুষ্ঠুভাবে এবং বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিতে করতে হলে আরো বেশি সময় নিয়ে করতে হতো। তবে যেটাই করা হোক, সেটা যেন ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

উল্লেখ্য, দায়িত্ব গ্রহণের সময় নিজের নির্বাচনী ইশতেহারে ঢাকাকে ঢেলে সাজানোর জন্য পাঁচটি রূপরেখা দিয়েছিলেন ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। তারই ধারাবাহিকতায় ঐতিহ্যের, সৌন্দর্যের, সুশাসনের, সচল এবং উন্নত ঢাকা গড়তে এই মহাপরিকল্পনার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। আগামী ৯ আগস্ট এই মহাপরিকল্পনা নিয়ে নাগরিকসমাজের সঙ্গে সভা করবেন মেয়র।



সাতদিনের সেরা