kalerkantho

বুধবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৮। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২১ সফর ১৪৪৩

ভাঙা ঘর থেকে আধুনিক ফ্ল্যাটে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভাঙা ঘর থেকে আধুনিক ফ্ল্যাটে

রাজধানীর মিরপুরে বস্তিবাসীর জন্য নির্মিত ৩০০টি ফ্ল্যাট গতকাল হস্তান্তর করা হয়। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : পিএমও

গণপূর্ত অধিদপ্তর ও জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ নির্মিত দুই হাজার ৪৭৪টি ফ্ল্যাট উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সরকারি আবাসন খাতে উন্মোচিত হলো এক নতুন দিগন্ত। মুজিববর্ষ উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঢাকায় নির্মিত এসব ফ্ল্যাট উদ্বোধন ও হস্তান্তর করা হয় গতকাল মঙ্গলবার। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিন তিনি বস্তিবাসী গৃহহীনদের জন্য মিরপুরে নির্মিত ভাড়াভিত্তিক ৩০০টি ফ্ল্যাটও হস্তান্তর করেন। দ্বিতীয় দফায় আরো ২৩৩টি ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হবে। রাজধানীর মিরপুরে বস্তিবাসী গৃহহীনদের জন্য ১৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুতল ভবনে ৫৩৩টি আধুনিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করেছে সরকার। বস্তির ঝুপড়ির সমান বা তার চেয়েও কম ভাড়ায় এসব আধুনিক ফ্ল্যাট পাচ্ছে বস্তিবাসীরা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বস্তিবাসীদের নিয়ে এমন উন্নত বাসস্থানের চিন্তা দেশে এটিই প্রথম।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আজিমপুর সরকারি কলোনি, মিরপুর ৬ নম্বর  সেকশন, মালিবাগ ও মতিঝিলে দুই হাজার ৪৭৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে ২৮৮টি ফ্ল্যাট গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এবং ৫৮টি ফ্ল্যাট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্ধারিত রয়েছে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে কয়েকজন বস্তিবাসীর মাঝে ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করেন। তিনি বলেন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে গণপূর্ত অধিদপ্তর ও জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ নির্মিত দুই হাজার ৪৭৪টি ফ্ল্যাটের উদ্বোধনের মাধ্যমে সরকারি আবাসন খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় কর্মরতদের আবাসনসংকট দীর্ঘদিনের। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগে সরকারি আবাসন ৮ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত করার জন্য অনুশাসন দেন। সেই অনুশাসনের পরিপ্রেক্ষিতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে, যাতে একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের আবাসনের ব্যবস্থার পাশাপাশি ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। এর অংশ হিসেবে নির্মিত এসব ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে।

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থায়নে ১৪৮ কোটি ৭৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ঢাকার মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনে ১৪ তলাবিশিষ্ট পাঁচটি ভবনে ৫৩৩টি ফ্ল্যাট নির্মাণের লক্ষ্যে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি একটি প্রকল্প হাতে নেয়। দুই একর জমির ওপর নির্মিত এসব অত্যাধুনিক ভবনে মাসিক, সাপ্তাহিক এমনকি দৈনিক ভিত্তিতে ভাড়া পরিশোধের মাধ্যমে গৃহহীনরা বসবাসের সুযোগ পাবে। এরই মধ্যে ৩০০টি ফ্ল্যাট বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ঢাকার মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনে ১৩১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে চারটি ভবনে ২৮৮টি ফ্ল্যাট গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে।