kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

ঢিমে তালে লকডাউন

♦ রাজধানীর কয়েকটি সড়কে থেমে থেমে যানজট
♦ গতকাল দুপুরেও কয়েকটি জেলা থেকে দূরপাল্লার বাস গাবতলী টার্মিনালে ঢুকেছে
♦ পুলিশ ১৮ জনের কাছে পরিচয় জানতে চাইলে ১৫ জনই পোশাক কারখানার পরিচয় দেন। তবে একজন ছাড়া কেউই কারখানার পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘কঠোর’ লকডাউনে রাজধানীর অনেক চেকপোস্টই পুলিশহীন। কয়েকটি সড়কে ছিল থেমে থেমে যানজট। মানুষের চলাচলও আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। ব্যক্তিগত গাড়ি ও সিএনজি অটোরিকশা চলছে বীরদর্পে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে দেখা গেছে ঢিলেঢালা ভাব। ঢাকায় ঢুকেছে দূরপাল্লার বাস, মাইক্রোবাস ও যাত্রীবাহী ট্রাক। লকডাউনের ১১তম দিন গতকাল সোমবার রাজধানীর ঢাকার ছবি ছিল এ রকমই।

রপ্তানিমুখী কলকারখানা খোলার ঘোষণায় শ্রমিকদের কর্মস্থলে আসার সুযোগ দিতে সরকার গত রবিবার দুপুর পর্যন্ত গণপরিবহন চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিলেও গতকাল দুপুরেও দেশের কয়েকটি জেলা থেকে দূরপাল্লার বাস গাবতলী টার্মিনালে ঢুকতে দেখা যায়। অবশ্য গাবতলীতে কর্মরত এক পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, সরকার সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গণপরিবহন চলাচলের সময় বাড়িয়েছে।

গাবতলীর আমিনবাজার ব্রিজের পূর্ব পাশে পুলিশ চেকপোস্টে ঢাকায় ঢোকা যাত্রীদের অনেকের কাছে প্রবেশের কারণ জানতে চায় পুলিশ। তাদের বেশির ভাগই নিজেদের পোশাক কারখানার কর্মী-কর্মকর্তা পরিচয় দেন। পুলিশের ওই চেকপোস্টে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখা যায়, পুলিশ ১৮ জনের কাছে পরিচয় জানতে চাইলে ১৫ জনই পোশাক কারখানার শ্রমিক ও কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেন। তবে একজন ছাড়া অন্যরা কেউই কারখানার পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। এ ব্যাপারে পুলিশ সার্জেন্ট আসাদুর রহমান বলেন, ‘দূরপাল্লার বাসে যেসব যাত্রী আসছে, তারা গার্মেন্টকর্মী হিসেবে পরিচয় দিলেও বাস্তবে তা নয়। এটা বোঝার পরও আমাদের কিছু করার নেই। কারণ সরকার সুযোগটা দিয়েছে গার্মেন্টকর্মীদের আসার জন্য।’

শুধু গাবতলী নয়, একই পরিস্থিতি দেখা যায় আব্দুল্লাহপুরেও। বিভিন্ন যানবাহনে চেপে মানুষ ঢুকেছে ঢাকায়, আবার ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলায়ও যাচ্ছে যাত্রীরা। টঙ্গী ব্রিজের উত্তর প্রান্তে গেলেই কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর বলে যাত্রীদের ডাকাডাকি করতে দেখা যায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের। প্রকাশ্যেই যাত্রীপ্রতি এক হাজার টাকা করে হাঁকা হচ্ছে। অটোরিকশাচালক সাহেব আলী বলেন, ‘এখন আমরাই দূরপাল্লার যাত্রী টানছি।’ এদিকে আমিনবাজার ব্রিজের পশ্চিম প্রান্ত থেকে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত মাইক্রোবাসে যাত্রীপ্রতি নেওয়া হচ্ছে ৫০০ টাকা। ব্যাটারিচালিত রিকশা ভাড়া করে যাত্রীরা যাচ্ছে টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায়। পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত ভাড়ায় যাত্রী বহন করছে এমন প্রায় অর্ধশত মোটরসাইকেল দেখা যায় আমিনবাজার ব্রিজের পশ্চিম প্রান্তে।

শিমুলিয়ায় ফেরি চলছে সীমিত পরিসরে : এদিকে মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, যাত্রীদের চাপ কমে যাওয়ায় শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দিয়ে ফেরি চলাচল সীমিত করা হয়েছে। শিমুলিয়া নদীবন্দরের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. শাহাদাত হোসেন  জানান, গতকাল সোমবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই পথে ৫২টি লঞ্চ চলাচল করেছে। যাত্রীর চাপ কমে যাওয়ায় দুপুর থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বিআইডাব্লিউটিসির টার্মিনাল সুপারিনটেনডেন্ট কাজী মফিজুল ইসলাম বলেন, ঘাটে এখন ছোট-বড় জরুরি পরিষেবা ও পণ্যবাহী শতাধিক যানবাহন পদ্মা পারাপারে অপেক্ষায় রয়েছে। তাই ফেরি চলছে সীমিত পরিসরে। 

বিআইডাব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের সহ-মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে বহরের ১৮টির মধ্যে  ৯টি ফেরি চলছে। যাত্রীর চাপ কমেছে। জরুরি পরিষেবার যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। তবে চেকপোস্ট পার হয়ে যেসব যান জরুরি প্রয়োজনে আসছে তাদেরও পার করা হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা