kalerkantho

শনিবার । ৮ মাঘ ১৪২৮। ২২ জানুয়ারি ২০২২। ১৮ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বন্দরে কনটেইনারজট কি কমবে

রপ্তানিমুখী কারখানা চালু

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তৈরি পোশাকসহ রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা আজ রবিবার থেকে খুলছে। এতে চট্টগ্রাম বন্দর ও বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে আটকে থাকা আমদানি পণ্যভর্তি বিপুলসংখ্যক কনটেইনার দ্রুত সরবরাহের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আটকে থাকা রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণেও গতি আসবে। কিন্তু তৈরি পোশাক কারখানার মালিকরা বলছেন, সময় ও খরচ বেশি হওয়ায় পোশাকশিল্পের কাঁচামালভর্তি কনটেইনার বেসরকারি কনটেইনার ডিপো থেকে ছাড় করাবেন না।

বিজ্ঞাপন

আগের মতো বন্দর থেকেই ছাড় করাবেন তাঁরা। আর বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবহারকারীরা বলছেন, শুধু রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানার পণ্য বন্দর থেকে সরবরাহ নিলেই হবে না, দেশের অন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্যও দ্রুত সরবরাহ না নিলে বন্দরে কনটেইনারজট পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। এ জন্য ভোগ্য পণ্যসহ অন্য পণ্যও দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

এমন অবস্থায় বন্দরে ও বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে আটকে থাকা কনটেইনারের জট দ্রুত কমার ব্যাপারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

শিপিংপ্রতিষ্ঠান ক্রাউন নেভিগেশন কম্পানি লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সাহেদ সারোয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, এমন তো নয় যে শুধু বিজিএমইএর (পোশাক মালিকদের) আমদানি পণ্য বন্দরে আটকে আছে। রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানার পণ্য ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের পণ্যভর্তি কনটেইনার, যেমন- যন্ত্রপাতি, ভোগ্য পণ্য, গাড়ি রয়েছে। এমনকি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পণ্যের বিপুলসংখ্যক কনটেইনার আটকে আছে। সেগুলো যদি দ্রুত ছাড়ের জন্য জোরালো পদক্ষেপ না নেওয়া হয় তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে অনেক সময় লাগবে। আর লকডাউন যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে আরো বিপদে পড়তে হবে বন্দরকে।

তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল বন্দরের বদলে বেসরকারি ডিপো থেকে ছাড় করবে না বিজিএমইএ, তাদের সেই সিদ্ধান্তে এখনো অটল থাকার কথা জানিয়েছেন সংগঠনটির প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি, নতুন করে গতকাল চিঠিও দিয়েছি, অফডক থেকে আমরা কাঁচামাল ছাড় করব না। কারণ অফডক থেকে পণ্য ছাড়ে সময় বেশি লাগছে; খরচও অনেক বেশি। ’

দ্রুত সরবরাহ নিতে চট্টগ্রাম বন্দর কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইয়ার্ডে থাকা পণ্যের মধ্যে বিজিএমইএর আমদানি খুব বেশি নয়, ফলে সেটি নিয়ে আমাদের উদ্বেগ নেই। আমরা চাইছি অন্য পণ্য যেন দ্রুত বন্দর থেকে ছাড় হয়, সেটি নিশ্চিত করা। সে জন্য আমরা কাজ করছি। ’ তিনি আরো বলেন, গার্মেন্টসহ শিল্প-কারখানা খোলা রাখলে নিশ্চিতভাবেই বন্দর থেকে কনটেইনারজট কমবে। একই সঙ্গে ব্যাংক খোলা থাকলে ডেলিভারির পরিমাণও বাড়বে। তবে কনটেইনারজট স্বাভাবিক অবস্থায় পৌঁছতে সপ্তাহখানেকের বেশি সময় লাগবে। যদি লকডাউন উঠে যায় তাহলে সময় আরো কম লাগবে।

বেসরকারি কনটেইনার ডিপোর হিসাবে, গতকাল পর্যন্ত আমদানি পণ্যভর্তি কনটেইনার ছিল সাড়ে ১১ হাজার একক; আর রপ্তানি পণ্যভর্তি কনটেইনার ছিল ১১ হাজার একক। রপ্তানি পণ্যভর্তি কনটেইনারের জট সামান্য কমলেও সরবরাহ না নেওয়ায় বেড়ে যায় আমদানি কনটেইনার। এই অবস্থার মধ্যেই ব্যবসায়ীদের ধারাবাহিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার আজ রবিবার থেকে রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত জানায়।



সাতদিনের সেরা