kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

বিলুপ্ত ছিটমহলের ৬ বছর পূর্তি আজ

উন্নয়নের ছোঁয়ায় আত্মপ্রত্যয়ী ওরা

ভুবন রায় নিখিল, নীলফামারী   

৩১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মীম আক্তার আর সুমাইয়া আক্তার এখন নবম শ্রেণির ছাত্রী। তাদের জন্ম বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় ছিটমহলে। ওদের মা-বাবা দুশ্চিন্তায় ছিলেন সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে। ছিটমহল বিলুপ্তির ছয় বছরে কেটে গেছে তাদের সেই দুশ্চিন্তা। বাংলাদেশের নাগরিকত্বের পরিচয়ে বেড়ে ওঠা মীম-সুমাইয়া এখন আত্মপ্রত্যয়ী। নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে লেখাপড়া শিখে নার্সিংয়ে মনোনিবেশ করতে চায় তারা।

তাদের বাড়ি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল নগর জিগাবাড়ী গ্রামে। মীমের বাবা গোলজার হোসেন (৫০) পেশায় ক্ষুদ্র কৃষক। মা মঞ্জিলা খাতুন (৪৫) একজন গৃহিণী। অন্যদিকে ক্ষুদ্র কৃষক মো. শাহজাহানের (৪৫) মেয়ে সুমাইয়া। তার মা আঞ্জুয়ারা বেগম (৪০) একজন গৃহিণী।

মীম বলে, ‘আগে ছিটমহলে আইন ছিল না, লেখাপড়ার সুযোগ ছিল না। নিরাপত্তার অভাবে আমার বড় বোনের বাল্যবিয়ে দেখেছি। এখন সবই আছে, সে সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে বড় হতে চাই।’ একই কথা বলে মীমের প্রতিবেশী বোন সুমাইয়া।

মীমের বাবা গোলজার হোসেন বলেন, ‘বন্দি জীবনোত মুইতো নিরক্ষর। এলা গ্রামের সোগ চাওয়া লেখাপড়া শিখিবায়া বড় হবার মনোনিবেশ করিছে। গ্রামোত চলাচলের আস্তা-ঘাট হইছে, শান্তিও ফিরিছে।’

শুধু মীম-সুমাইয়া নয়, ছিটমহলের বন্দিজীবন থেকে মুক্তির স্বাদে তাদের মতো নিজেদের গড়তে চায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার অভ্যন্তরের বিলুপ্ত চারটি ছিটমহলের নতুন প্রজন্মের কিশোর-কিশোরীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ওই চার ছিটমহলের ৬৮ বছরের বন্দিদশার ছাপ কাটিয়ে অনেকটাই উত্ফুল্ল অধিবাসীরা। বিগত ছয় বছরে এসব গ্রামে গড়ে উঠেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি সেন্টার, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে নির্মাণ হয়েছে পাকা রাস্তা, ব্রিজ-কালভার্ট। এসব রাস্তা দিয়ে চলতে দেখা গেছে বিভিন্ন যানবাহন। প্রতিটি বাড়িতে জ্বলছে বিদ্যুতের আলো। যোগাযোগব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে শিশু-কিশোর-কিশোরীরা লেখাপড়ায় যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

গত ছয় বছরে বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ কতটা পূর্ণ হয়েছে জানতে গত শনিবার সেখানে যাওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, তাদের প্রধান দাবি ছিল যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন। গত ছয় বছরে সে উন্নয়ন হয়েছে চাহিদামতো। এখন তারা চলাচল করতে পারে এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পদাচরণে এসব গ্রামে অবসান হয়েছে অরাজকতার।

এ বিষয়ে নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার বলেন, ‘ছিটমহল বিলুপ্তির পর থেকে এসব গ্রামের মানুষ দেশের মূলধারার নাগরিকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। দেশের একজন সাধারণ নাগরিক যেসব সুবিধা ভোগ করে, তারাও সে সুবিধা ভোগ করছে।’ তিনি বলেন, ‘বিগত ছয় বছরে ডিমলার ওই চার বিলুপ্ত ছিটমহলে ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। যেটুকু ঘাটতি আছে তা-ও দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।’

উল্লেখ্য, নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বিলুপ্ত চারটি ছিটমহলে ১৬৮.৪৮ একর এলাকায় ১৫৭ পরিবারের বসবাস। ওই চার ছিটমহলের জনসংখ্যা ৬৪৫। সে সময়ে তাদের মধ্যে ভারতের নাগরিকত্ব নেয়নি কেউ। এসব ছিটমহলের পাশে অবস্থিত উপজেলার গয়াবাড়ী, খগাখড়িবাড়ী ও টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন।



সাতদিনের সেরা