kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ কার্তিক ১৪২৮। ২৬ অক্টোবর ২০২১। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জুলাইয়ের মৃত্যুর তথ্য গোপন

চমেক হাসপাতাল

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

৩১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জুলাইয়ের মৃত্যুর তথ্য গোপন

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চলতি মাসে (১ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত) কত রোগী মারা গেছে? এটা জানতে গতকাল শুক্রবার এ প্রতিবেদক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে দফায় দফায় যোগাযোগ করেন। এর পরও কোনো সংখ্যা জানতে পারেননি।

সকালের দিকে প্রথমে হাসপাতালের রেড ও ইয়েলো জোনের কয়েকজন চিকিৎসক ও কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তাঁরা এ ব্যাপারে তথ্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তাঁরা জানান, পরিচালকের নিষেধ আছে, তিনি এ বিষয়ে তথ্য জানাবেন।

এরপর দুপুরে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ হয়। এসব তথ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে প্রতিদিন তথ্য পাঠাই। সেখানে পাবেন এসব তথ্য।’ তিনিও এসব তথ্য জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

পরে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে দৈনিক তথ্য আসে। চমেক হাসপাতালের মাসভিত্তিক আলাদা করে কোনো তথ্য নেই।’

এরপর চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চমেক হাসপাতালের তথ্য আমাদের কাছে আসে না। এসব তথ্য উনারাই দিতে পারবেন।’

গোপনীয়তার কারণ

নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানায়, চমেক হাসপাতালে রেড ও ইয়েলো জোনে বেশি রোগী মারা যাওয়ার কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমের কাছে কোনো তথ্য জানান না। অভিযোগ উঠেছে, রেড জোনে আইসোলেশনে থাকা অনেক রোগীর হাই ফ্লু ন্যাজাল ক্যানুলা প্রয়োজন হলেও তাঁরা পাচ্ছেন না। রোগীদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এ যন্ত্রের মারাত্মক সংকট থাকলেও সেদিকে নজর নেই কৃর্তপক্ষের। কয়টি যন্ত্র সচল ও অচল আছে তাও জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন চিকিৎসক-কর্মকর্তারা। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালের তুলনায় চমেক হাসপাতালে হাই ফ্লু সংকট প্রকটের কারণেও রোগী মারা যাচ্ছে।

আনুমানিক সংখ্যা

চমেক হাসপাতালে চলতি মাসে ৭০০-এর বেশি রোগী মারা গেছে বলে জানিয়েছে একটি স্থানীয় সূত্র। এর মধ্যে রেড জোনে (করোনা আক্রান্ত) দুই শতাধিক ও ইয়েলো জোনে (উপসর্গ) পাঁচ শতাধিক রোগী মারা গেছে। মহামারি শুরুর পর বিভাগের বৃহৎ বিশেষায়িত সরকারি এ হাসপাতালে চলতি মাসেই (মাসভিত্তিক) সবচেয়ে বেশি রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতালে করোনা পজিটিভ ও উপসর্গ রোগী ভর্তির জন্য বর্তমানে ৩০০টি শয্যা আছে। এর মধ্যে রেড জোনে ২০৬টি শয্যা রয়েছে। মোট ৩০০ শয্যার মধ্যে প্রায় সব কটিতেই এখন রোগী ভর্তি থাকে।

এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত

চট্টগ্রামে এক দিনের ব্যবধানে করোনা শনাক্তে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় তিন হাজার ৯২৩টি নমুনা পরীক্ষায় এক হাজার ৪৬৬ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। দৈনিক নমুনা পরীক্ষায় গতকাল শুক্রবারের এই শনাক্ত এক দিনে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। এদিন শনাক্তের হার ৩৭.৩৭ শতাংশ। সর্বোচ্চ সংখ্যক শনাক্তের দিনে করোনা আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে মারা গেছে ৯ জন।

গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী এদিন মোট করোনা শনাক্তের মধ্যে নগরে এক হাজার ৮৫ জন ও জেলায় ৩৮১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট নমুনা পরীক্ষার মধ্যে নগরে তিন হাজার ২২ জন ও জেলায় ৯০১ জন। এদিন শনাক্তের হার নগরে ৩৫.৯০ শতাংশ ও জেলায় ৪২.২৯ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীর মধ্যে নগরে পাঁচজন ও জেলায় চারজন।

এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে পাঁচ লাখ ৬২ হাজার ৪৮৮টি। এর মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ৮১ হাজার ২১৭ জনের দেহে। এর মধ্যে নগরে ৬০ হাজার ৯০৭ জন এবং জেলায় ২০ হাজার ৩১০ জন। মোট নমুনা পরীক্ষার অনুপাতে শনাক্তের হার ১৪.৪৪ শতাংশ।

এ ছাড়া গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুবরণকারীর (৯৫৮ জন) মধ্যে নগরে ৫৮৪ জন ও জেলায় ৩৮৪ জন। শনাক্ত অনুপাতে মৃত্যুহার ১.১৮ শতাংশ।



সাতদিনের সেরা