kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র

প্রশংসনীয় উদ্যোগ উদ্বেগ—দুটোই আছে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রশংসা ও উদ্বেগ—দুটোই জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। গত ২১ জুলাই পররাষ্ট্র দপ্তরে ওই ব্রিফিংয়ে অংশ নেওয়া একজন বাংলাদেশি সাংবাদিক বাংলাদেশের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বাইডেন প্রশাসন মানবাধিকারকে তাঁর পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হিসেবে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে ওই সাংবাদিক বলেন, এখানে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক বিরোধিতা, নাগরিক সমাজ, বিচার বিভাগসহ সব কিছু এখানে ক্ষমতাসীনরা নিয়ন্ত্রণ করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এমনকি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, ‘দেশের প্রধান বিরোধী নেত্রী’ খালেদা জিয়া ‘হাউস অ্যারেস্ট’ অবস্থায় আছেন—এ কথা ব্রিটিশ প্রতিবেদনে উল্লেখ করায় ব্রিটিশ দূতকে সরকার তলব করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনেও খালেদা জিয়া ‘হাউস অ্যারেস্ট’ বলা হয়েছে উল্লেখ করে প্রশ্নকারী সাংবাদিক বলেন, এটি খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে নিশ্চিহ্ন করার রাজনৈতিক ছক। বাংলাদেশ নিয়ে এসব বর্ণনার পর তিনি জানতে চান, বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কী? প্রধানমন্ত্রীকে ‘কর্তৃত্ববাদী’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি জানতে চান, বাইডেন প্রশাসন কি তাঁর ব্যাপারে সমালোচনা করবে?

জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস মানবাধিকার ইস্যুকে বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে রাখার কথা জানান। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিবিড়ভাবে কাজ করছি। এগুলোর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনও আছে। শ্রম ও মানবাধিকার ইস্যুকে সম্মান জানানোর গুরুত্বের বিষয়েও আমরা নিয়মিত আলোচনা করি।’

নেড প্রাইস বলেন, ‘গত বছর বাংলাদেশ মানবাধিকারের কিছু সুরক্ষায় অগ্রগতি দেখিয়েছে। যেমন বাংলাদেশের নিজস্ব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও আট লাখ ৬০ হাজার রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে এবং ২০১৭ সাল থেকে তারা সুরক্ষা দিচ্ছে। এটি বিশেষ স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য।’

পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, ‘অগ্রগতি প্রশংসনীয়। তবে গণমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘনে আমরা উদ্বিগ্ন। ব্যক্তিগত মত প্রকাশের কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা ও গ্রেপ্তার বাড়ার খবর আমরা আমলে নিয়েছি। বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম কর্মী ও বিরোধী রাজনীতিকদের দমন, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও আটক করা অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ আছে। গত বছরের শুরুর দিকে প্রথম কভিড-১৯ শনাক্ত হওয়ার পর থেকে সরকার কঠোরভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করছে। এর ফলে মহামারি মোকাবেলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করা কয়েক ডজন ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন। প্রথমবারের মতো শিক্ষা পেশাজীবীদের বিরুদ্ধে ওই আইন প্রয়োগ করা হয়েছে।’

মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেন, ‘অনলাইনে মত প্রকাশসহ মত প্রকাশের স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক সরকার, শাসনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। বিশ্বজুড়ে আমরা যেমনটা করি তারই আলোকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমরা গণমাধ্যমের সদস্যসহ মত প্রকাশের, একত্র হওয়ার স্বাধীনতার সুরক্ষায় এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটক ব্যক্তিদের ন্যায্য বিচার পওায়া নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারকে আহবান জানাই।’



সাতদিনের সেরা