kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

ট্রেনের এত টিকিট গেল কই!

সজিব ঘোষ   

১৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঈদে চলাচল করবে ট্রেন। এমন খবরে বাড়িমুখো মানুষ ট্রেনের টিকিটের জন্য মুখিয়ে ছিল। গতকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে অনলাইন ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি শুরু করে রেলওয়ে। অথচ যারা টিকিট কিনতে আগ্রহী ছিল তাদের ৯০ শতাংশ টিকিট পায়নি। দীর্ঘ সময় কাজ করছিল না রেলের টিকিট কাটার সার্ভার। আবার অনেকে টিকিট কাটতে কয়েকটি ধাপ এগোনোর পর দেখে টিকিট শেষ।

এদিকে গতকাল সকাল থেকে রেলওয়ে টিকিট বিক্রি শুরু করলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মঙ্গলবার রাত থেকে চলছে টিকিট বিক্রি। ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে টিকিট বুকিংয়ের নামে আগাম টাকা নেওয়ার কথাও শোনা গেছে। কিন্তু রেলওয়ে বলছে, কালোবাজারে টিকিট বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। এই পরিস্থিতিতে বহু যাত্রী প্রশ্ন তুলেছে, ট্রেনের এত টিকিট গেল কই? 

লম্বা বিরতির পর ঈদুল আজহা সামনে রেখে এক সপ্তাহের জন্য দেশজুড়ে যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে ২৩ জুলাই ভোর ৬টা পর্যন্ত ৩৮ জোড়া আন্ত নগর ও ১৯ জোড়া লোকাল ট্রেন চলাচল করবে। এসব ট্রেনের অর্ধেক আসনে যাত্রী পরিবহন করা হবে। থাকছে না দাঁড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ। এ ছাড়া ঈদে বাড়তি চাহিদা থাকায় খুলনা, রাজশাহী, সিলেটসহ বিভিন্ন রুটে বিশেষ ট্রেন চালু করে রেলওয়ে। কিন্তু এবার ঈদে বিশেষ কোনো ট্রেন থাকছে না। অতিরিক্ত বগি লাগানোর ব্যবস্থাও থাকছে না।

রেলওয়ে সূত্র বলছে, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ৮৮ হাজার টিকিট বিক্রি করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে, যেখানে ঢাকা (কমলাপুর) ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনেই বরাদ্দ থাকে প্রায় ৩২ হাজার টিকিট। যাত্রীদের টিকিট না পাওয়া প্রসঙ্গে সূত্র বলছে, সকাল ৮টায় টিকিট বিক্রির সার্ভার চালু করা হয়। ৮টা ৪ মিনিটে অ্যাপের মাধ্যমে ১৭ লাখ ৮৬ হাজার জন টিকিট কাটার চেষ্টা করছিল। অনলাইনের মাধ্যমে ওই মুহূর্তে সার্ভারে ছিল আরো দুই লাখ ৮০ হাজার জন। অথচ দিনভর টিকিট বিক্রি হয়েছে মাত্র ৮৮ হাজার। এতেই পরিষ্কার হওয়া গেছে, যারা টিকিট কাটতে চেয়েছে তারা সবাই টিকিট পাবে না।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সরদার শাহাদাত আলী  বলেন, ‘টিকিট না দিলে লাভটা কার? রেল এই কাজটা কেন করতে যাবে! রেল চায় টিকিট বিক্রি করতে, যাত্রীদের সন্তুষ্ট করতে। কিন্তু যে পরিমাণ টিকিটপ্রত্যাশী, সে পরিমাণ টিকিট দেওয়ার সক্ষমতা আমাদের নেই।’

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মাসুদ সারওয়ার বলেন, ‘অনেকেই চেষ্টা করে টিকিট পাচ্ছে না, এমন অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু টিকিট তো আমাদের হাতে নাই। সবটাই এখন অনলাইনে। আমি আমার আপন ভাইকেও একটা টিকিট দিতে পারি নাই। এখানে ব্ল্যাকে টিকিট কেনাবেচার কোনো সুযোগ নাই। তবু স্টেশনে নিরাপত্তার দায়িত্বে যাঁরা আছেন তাঁদের চোখকান খোলা আছে।’

বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন টিকিট বিক্রির দায়িত্বে আছে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সার্ভিস (সিএনএস) নামের একটি প্রতিষ্ঠান। সার্ভার ডাউন ও কালোবাজারে টিকিট বিক্রি প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সাইটের কিছু দুর্বলতা আছে, এটা ঠিক। সেটা নিয়ে আমরা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথাও বলেছি। কিন্তু অনেক জটিলতা।’ 



সাতদিনের সেরা