kalerkantho

সোমবার । ৫ আশ্বিন ১৪২৮। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১২ সফর ১৪৪৩

প্রকাশনা জগতের পথিকৃৎ মহিউদ্দিন আহমেদের বিদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রকাশনা জগতের পথিকৃৎ মহিউদ্দিন আহমেদের বিদায়

তিনি ছিলেন অন্তরালের মানুষ। প্রথম জীবনে সাংবাদিক এবং পরবর্তীকালে প্রকাশনা শিল্পে আত্মনিবেদিত। এ দেশে সৃজনশীল বইয়ের মানসম্পন্ন প্রকাশনার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দেশের গবেষণামূলক বইকে বহির্বিশ্বে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে পালন করেছেন অনন্য ভূমিকা। বাংলাদেশের প্রকাশনা জগতের পথিকৃৎ ও মহীরুহ ব্যক্তিত্ব ‘দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড’ (ইউপিএল)-এর প্রতিষ্ঠাতা মহিউদ্দিন আহমেদ আর নেই। গত সোমবার রাত ১টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে, এক ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। প্রয়াতের মেয়ে ও ইউপিএলের পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন জানিয়েছেন, কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। কিছুদিন আগে কভিড সেরে উঠেছিলেন। প্রায় ২০ বছর বাবা পারকিনসন্সে ভুগছিলেন। গুলশানের আজাদ মসজিদে গতকাল মঙ্গলবার জোহর নামাজের পর জানাজা শেষে তাঁকে বনানী গোরস্তানে সমাহিত করা হয়েছে।

মহিউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

বাংলা একাডেমির শোকবাণী : মহিউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের প্রকাশনা জগতে এক কিংবদন্তি নাম। ইউপিএলের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের মানসম্পন্ন গ্রন্থের প্রচার-প্রসারে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। গ্রন্থসুহৃদ সমাজ গঠনেও তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রকাশ এবং বিশ্বব্যাপী এর প্রচারেও মহিউদ্দিন আহমেদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রকাশনা জগতে মহিউদ্দিন আহমেদ বিরল অবদান রেখেছেন। তিনি এ দেশে প্রথম সুসম্পাদিত বই প্রকাশ শুরু করেন। সাংগঠনিকভাবেও প্রকাশনা শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সক্রিয় ছিলেন তিনি। ‘বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি’ এবং ‘বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ‘বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি’ তাঁকে ‘ইমেরিটাস পাবলিশার’ অভিধায় সম্মানিত করে। বাংলা একাডেমির ফেলো ছিলেন। পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ১৭ জন প্রকাশককে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য আমন্ত্রণ জানান। মহিউদ্দিন ছিলেন তাঁদের মধ্যে একজন। অ্যারিজোনার বেনসনে অবস্থিত ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি’র আন্তর্জাতিক কার্যালয় থেকে ১৯৮৮ সালে তাঁকে ‘পাবলিশিং ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ে ‘কালচারাল ডক্টরেট’ ডিগ্রি প্রদান করা হয়। ১৯৮১ সাল থেকে মোট ১৬ বার ইউপিএল জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন।

মহিউদ্দিন আহমেদের জন্ম ১৯৪৪ সালে ফেনীর পরশুরামে। তাঁর বাবা ছিলেন ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান পোস্টাল সার্ভিসের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। নটর ডেম কলেজে ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি ‘ব্লু অ্যান্ড গোল্ড’ নামক কলেজ ম্যাগাজিনের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।