kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৮। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২০ সফর ১৪৪৩

শেখ হাসিনাকে মোদির চিঠি

কভিডের প্রভাব কাটাতে সাহায্য করবে যোগাভ্যাস

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কভিডের প্রভাব কাটাতে সাহায্য করবে যোগাভ্যাস

করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত বিশ্বে নিয়মিত যোগাভ্যাসের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি পাঠিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ সোমবার আন্তর্জাতিক যোগ দিবস সামনে রেখে সম্প্রতি ওই চিঠি পাঠান মোদি।

চিঠিতে মোদি লিখেছেন, ২০১৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে ঘোষণার অভূতপূর্ব সাড়া যোগব্যায়ামের সর্বজনীন আবেদনের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে। তখন থেকেই বিশ্বব্যাপী সাড়ম্বরে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হয়ে আসছে।

মোদি লিখেছেন, ‘বিগত বছরের মতো এ বছরও কভিড-১৯ মহামারির প্রকোপের মধ্যেই আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হবে। এই অবিস্মরণীয় প্রতিকূলতার মধ্যেও আমাদের কভিড-১৯ যোদ্ধারা উল্লেখযোগ্যভাবে এই মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। মহামারির হুমকির মধ্যেও গত আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের পর থেকে বেশ কিছু ইতিবাচক ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি ও ভাইরাসবিষয়ক বৈজ্ঞানিক গবেষণার পাশাপাশি আমাদের জনগণকে রক্ষার জন্য এখন একাধিক টিকাও রয়েছে আমাদের কাছে। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে টিকাদান কর্মসূচি চলছে। আমার বিশ্বাস, মানবজাতি খুব শিগগির এই মহামারি কাটিয়ে উঠবে।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থতার জন্য যোগ’। এটি বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। শরীরের পাশাপাশি যোগব্যায়াম মনের জন্যও বেশ উপকারী।

মোদি লিখেছেন, ‘সব ধরনের সাবধানতা সত্ত্বেও একজন মানুষ কভিড-১৯ আক্রান্ত হতে পারে। কিন্তু একটি শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একে মোকাবেলার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। যোগব্যায়াম আমাদের সেই প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরিতে সাহায্য করে, যেমন—শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামের ফলে ফুসফুসের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। একই সময় সারা বিশ্বে কোটি কোটি মানুষ মাসের পর মাস ঘরে থাকতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও বেশ প্রভাব পড়েছে। নিয়মিত যোগাভ্যাস তাদের এই প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।’

যোগাভ্যাস সম্পর্কে মোদি তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, যোগের একটি সহজাত শক্তি রয়েছে মানুষকে যুক্ত করার। যোগব্যায়াম সম্প্রদায়, রোগ প্রতিরোধ এবং ঐক্য এই তিনের জন্যই উপকারী। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য সাড়া বিশ্বের মানুষের সুস্বাস্থ্য ও সুস্থতার প্রতি উদ্বেগকেই প্রতিফলিত করে। এটি এমন একটি উদ্যোগ যা মানুষের শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি সুস্থতার প্রতিও গুরুত্ব দেয়।

বাংলাদেশে সফলভাবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালনে সরকারের সহযোগিতার জন্য শেখ হাসিনাকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান মোদি। তিনি লিখেছেন, ‘গত কয়েক বছরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে যোগ দিবস পালনের জন্য বাংলাদেশি ভাই ও বোনদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখে আমি অত্যন্ত আপ্লুত হয়েছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সামনের বছরগুলোতেও আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালনে আপনার সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। আমি আপনি, আপনার পরিবার ও দেশের জনগণের সুস্থতা ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি।’