kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৮। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২০ সফর ১৪৪৩

সিপিডির আলোচনা

কুইক রেন্টালের মেয়াদ আর না বাড়ানোর প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশে যেসব কুইক রেন্টাল বিদ্যুেকন্দ্র আছে, নতুন করে সেগুলোর মেয়াদ না বাড়ানোর সুপারিশ করেছে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। ২০২০ সালে কুইক রেন্টালের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু এ খাতে সরকারের খরচ অব্যাহত আছে। এর আগেও কয়েকবার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে আসা যাচ্ছে না। ব্যয় কমাতে ২০২৫ সালের আগে নতুন কোনো বিদ্যুেকন্দ্র করার এই মুহূর্তে প্রয়োজন নেই। কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রও আর না করা। যতটুকু দরকার সেটার বাইরে যেন আর বরাদ্দ দেওয়া না হয়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম কমানো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোরও সুপারিশ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।

গতকাল রবিবার ‘বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনাসভায় এসব সুপারিশ করে সিপিডি। সিপিডি বলেছে, বিদ্যুৎ খাতে আগের চেয়ে দক্ষতা বেড়েছে। সিস্টেম লসের পাশাপাশি বিদ্যুতের উৎপাদন খরচও সামান্য কমেছে। এর পরও চড়া দামে বেসরকারি কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনা এবং অলস কেন্দ্রের ভাড়া পরিশোধের কারণে বছরে বিপুল টাকা লোকসান করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সামনের দিনে কয়লানির্ভর জ্বালানি থেকে বের হয়ে আসার প্রতিশ্রুতি থাকলেও প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, ‘বাজেটে সঞ্চালন ও বিতরণে আগামী দিনে বরাদ্দ আরো বাড়বে, সেই ইঙ্গিত আমরা পাচ্ছি। সেটি আগামী দিনে আমরা দেখব। আমরা মনে করছি, সরকার আগামী দিনে ক্লিন এনার্জিতে বিশেষ গুরুত্ব দেবে। ওভার জেনারেশনের সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য যেসব বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, বিপিডিবি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় সেটি নেবে বলেও তিনি মনে করেন।’

তিনি বলেন, ‘২০২১ সালটি তুলনামূলকভাবে এক ধরনের মাঝারি মানে গেছে। সেই জায়গাটিতে ধীরে ধীরে আমরা পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি উদ্যোগের। এর পরও আমরা বলব, সেই পরিবর্তনগুলো পর্যাপ্ত নয়। আমরা আগামী দিনে প্রত্যাশা করব যে বিপিডিবি তার রেড জোন থেকে গ্রিন জোনে ফিন্যানশিয়াল পজিশনে নিয়ে যেতে পেরেছে।’

বিজিএমইএর পরিচালক আসিফ আশরাফ বলেন, ‘আমাদের বিদ্যুৎ আছে; কিন্তু গুণগত বিদ্যুৎ নেই। এ কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ঝুঁকির শঙ্কায় থাকে। সরকারকে এই বিষয়টি দেখতে হবে। নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলা হচ্ছে; কিন্তু আমরা দেখছি বাজেটে অযৌক্তিকভাবে সোলার ও ইনভার্টারের ওপর ভ্যাট, ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে। এ সময় তিনি যেসব প্রতিষ্ঠান নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে, তাদের ট্যাক্স ইনসেনটিভ দেওয়ার দাবি জানান।’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেন, ‘এই বাজেটে পলিসি পরিবর্তন তেমন দেখতে পায়নি।’