kalerkantho

শুক্রবার । ৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৩ জুলাই ২০২১। ১২ জিলহজ ১৪৪২

ফল ও সবজি রপ্তানি বাড়াতে পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফল ও সবজি রপ্তানি বাড়াতে পরিকল্পনা

ফল ও সবজি রপ্তানি বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনা থাকলেও নানা প্রতিবন্ধকতায় পিছিয়ে পড়ছে এই খাত। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে ফল ও সবজি রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এ জন্য প্রাথমিকভাবে সাতটি ফল ও সবজি চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই ধরনের ফল হলো—আম ও লেবু। আর পাঁচ ধরনের সবজি হলো—দেশীয় শিম, বেগুন, শশা, পটোল ও করলা।

ফল ও সবজি রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে অন্তত ২০ ধরনের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ১৬টি সুপারিশও পাওয়া গেছে।

গতকাল শনিবার উদ্যান ফসলের রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে প্রযুক্তির উন্নয়ন ও প্রয়োগবিষয়ক কর্মশালায় এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই কর্মশালার আয়োজক বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)। রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) অর্থায়নে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। বারির পরিচালক (পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন) ড. মো. কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের পিপিসি উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রুহুল আমিন তালুকদার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বারির সবজি বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ফেরদৌসী ইসলাম।

কর্মশালায় সবজি ও ফলের রপ্তানি কিভাবে বাড়ানো যায়, কোন কোন দেশে রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে, প্রতিবন্ধকতাগুলো কিভাবে দূর করা যায়, কিভাবে উৎপাদন বাড়ানো যায়, কোন কোন অঞ্চল থেকে এসব ফল ও সবজি সংগ্রহ করা হবে ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়। এরই মধ্যে পরিকল্পনায় আরো কী যোগ করা যায় এ বিষয়ে মতামত নিতে কাজ শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে এ জন্য ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ের আলাদা একটি প্রকল্প প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা করা হয়।

কর্মশালার মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১২.১ মিলিয়ন মেট্রিক টন ফল এবং ১৬.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন সবজি উৎপাদন হয়। দেশের চাহিদা মিটিয়ে এসব উৎপাদিত ফল ও সবজি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা সম্ভব। কিন্তু উৎপাদিত সবজি ও ফলের সঠিক গুণগতমানের অভাব, নিরাপদ উৎপাদনের অভাব, গুড অ্যাগ্রিকালচার প্র্যাক্টিসের (জিএপি) অভাব, অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার, চুক্তিভিত্তিক কৃষক না থাকা (কন্ট্রাক্ট ফার্মিং), অ্যাক্রেডিটেশন ল্যাবরেটরি না থাকা, তদারকি ও মানসনদের দুষ্প্রাপ্যতা, রপ্তানির জন্য বিশেষ অঞ্চল না থাকাসহ ২০ ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এ ক্ষেত্রে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ প্রতিবন্ধকতা দূর করা ও আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধানের সুপারিশ করা হয়েছে। কর্মশালায় উদ্যান ফসলের রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে প্রযুক্তির উন্নয়ন ও প্রয়োগবিষয়ক প্রকল্প প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন বারির আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র এবং হাটহাজারী, চট্টগ্রামের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মশিউর রহমান।

পরে প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে খাতসংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন আলোচক আরো কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, রপ্তানি করার জন্য উৎপাদিত ফল ও সবজিগুলোর মান ঠিক রাখতে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির বিষয়গুলো চিহ্নিত করার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এ ছাড়া কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠে তদারকি বাড়ানো, দূতাবাসগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। পণ্য বিমানের পরিবর্তে জাহাজে পাঠানোর ব্যবস্থার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

পরিকল্পনা অনুসারে উল্লিখিত সবজিগুলো সংগ্রহ করা হবে নরসিংদী, কুমিল্লা ও টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে। এ ছাড়া লেবু সিলেট এবং আম রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সাতক্ষীরা থেকে সংগ্রহ করা হবে। তবে নরসিংদী থেকে লেবু ও মানিকগঞ্জ থেকে সবজি সংগ্রহের পরামর্শও দিয়েছেন অনেকে। এসব সবজি উৎপাদনের জন্য কৃষক নির্দিষ্ট করে চুক্তিভিত্তিক চাষের পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদনে নির্দিষ্ট জোন তৈরিরও পরিকল্পনা করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা