kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

গোয়াইনঘাটে দুই শিশুসহ মাকে গলা কেটে হত্যা

গৃহকর্তা আহত হাসপাতালে

সিলেট অফিস   

১৭ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সিলেটের গোয়াইনঘাটে মা ও দুই সন্তানকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ফতেহপুর বিন্নাকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। নিহতরা হলেন স্থানীয় হিফজুর রহমানের স্ত্রী আলিমা বেগম (৩০), তাঁর ছেলে মিজান (১০) ও মেয়ে তানিশা (৩)। এ ছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় হিফজুর রহমানকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে তাঁকেও সন্দেহ করছে পুলিশ।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ জানায়, গতকাল সকালে ঘুম থেকে উঠতে বিলম্ব দেখে প্রতিবেশীরা হিফজুরের ঘরের সামনে যান। ভেতর থেকে শব্দ শুনে তাঁরা দরজায় ধাক্কা দিলে দরজা খুলে যায়। ভেতরে প্রবেশ করে তাঁরা খাটের মধ্যে তিনজনের গলা কাটা মরদেহ এবং রক্তাক্ত আহত অবস্থায় হিফজুরকে দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। আর গুরুতর আহত হিফজুরকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিহত তিনজনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং হিফজুরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে দায়ের কোপ ছিল।

হিফজুরের সত্ভাই মাতাব উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি পাশের গ্রাম গোসাইনপুরে থাকি। সকাল ৮টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। ততক্ষণে লাশ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভাই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। আমার জানা মতে তাঁর কারো সঙ্গে বিরোধ ছিল না। ভাবিও ভালো মানুষ। কেন এমন ঘটনা ঘটল বুঝতে পারছি না।’

এই হত্যাকাণ্ডে কাউকে সন্দেহ করছেন কি না—এমন প্রশ্নে মাতাব বলেন, ‘ভাইয়ের বাড়ির দুই পাশে দুটি বাড়ি আছে। একটিতে আমাদের মামা থাকেন। অন্যটিতে থাকেন হারুন নামের এক ব্যক্তি। দুটি বাড়ির সঙ্গেই ভাইয়ের বাড়ির দূরত্ব বড়জোর ১৫ ফুট। এই দূরত্বের মধ্যে তিনজন মানুষকে জবাই করে ফেলল অথচ প্রতিবেশীরা কিছুই জানতে পারল না! বিষয়টি সন্দেহজনক লাগছে মনে করছি। তাঁরা জড়িত থাকতে পারেন।’ এমন সন্দেহ কেন—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে ভাই বলেছিলেন যে জমিজমা নিয়ে কিছুটা মনোমালিন্য হচ্ছে মামার সঙ্গে।’

স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও হিফজুরের প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘হিফজুর তাঁর মামার বাড়িতে মায়ের জায়গায় ঘর বানিয়ে থাকেন। তাঁর বাবার বাড়ি পার্শ্ববর্তী গ্রামে। হিফজুরের কোনো শত্রু আছে বলে আমার জানা নেই। কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাও বুঝতে পারছি না।’

হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে সিলেটের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশিষুর রহমান, গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিলুর রহমান, গোয়াইনঘাট থানার ওসি আব্দুল আহাদ, জৈন্তাপুর থানার ওসি গোলাম দস্তগীর, ওসি ডিবি সাইফুল ইসলাম প্রমুখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

জানা গেছে, এই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় পুলিশ বিশেষত দুটি ক্লু নিয়ে কাজ করছে। এরই মধ্যে হিফজুরের মামা ও কয়েকজন আত্মীয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। জায়গাসংক্রান্ত ও পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। অন্যদিকে গুরুতর আহত হলেও হিফজুরকে সন্দেহের বাইরে রাখছে না পুলিশ। হিফজুরের সঙ্গে কথা বললে অনেক কিছু জানা যাবে বলে পুলিশের ধারণা।

ওসি আব্দুল আহাদ বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের একাধিক মোটিভ সামনে রেখে আমরা কাজ করছি। তবে এটি ডাকাতির কোনো ঘটনা নয়। হিফজুররা একেবারেই দরিদ্র। তা ছাড়া ঘরের কোনো জিনিসপত্র খোয়া যায়নি।’

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম বলেন, ‘বিভিন্ন আলামত থেকে এটা বলা যায় যে হিফজুর এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। হাসপাতালে দুপুর ২টার দিকে হিফজুরের জ্ঞান ফিরেছে। এখন সে ওয়ার্ডে রয়েছে। কেবিনে আইসোলেশনে নেওয়ার পর তার সঙ্গে কথা বলবে পুলিশ।’



সাতদিনের সেরা