kalerkantho

শনিবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৭ সফর ১৪৪৩

অচেনা নারী হত্যার রহস্য উদঘাটন করল সিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ফারুকুল ইসলাম (৪৩), কাজী ইমরান মাহমুদ (৩২) ও সালাউদ্দিন খলিফা ওরফে সুমন (৩৮)। গতকাল মঙ্গলবার সিআইডি সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এ খুনের বিষয়ে বিস্তারিত সাংবাদিকদের জানানো হয়।

সিআইডি জানায়, অজ্ঞাতপরিচয় নারীর নাম সুমি হাসান (৩০)। গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায়। তাঁর বাবার নাম চাঁন মিয়া শেখ। স্বামীর নাম জাহিদ হাসান। তাঁর স্বামী একজন ড্রাইভার এবং তিনি বর্তমানে ঢাকায় থাকেন। জাহিদ হাসানের মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে সিআইডি তাঁর পালক মা আম্বিয়া খাতুনের বাড়িতে গিয়ে সুমি হাসানের ছবি দেখালে তিনি সুমি হাসানকে শনাক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজধানীর খিলক্ষেত থানা এলাকার পূর্বাচল থেকে তিন শ ফুট রাস্তার দক্ষিণ পাশে ঝোপের ভেতর অজ্ঞাতপরিচয় নারীর লাশ পাওয়ার পর খিলক্ষেত থানার পুলিশ সিআইডির ক্রাইম সিন টিমকে সংবাদ দেয়। পরে সিআইডির ক্রাইম সিন টিম এবং টিম-২, ঢাকা মেট্রো উত্তর, সিআইডি, ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। সিআইডির ক্রাইম সিন টিম অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহের ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও বায়োলজিক্যাল এভিডেন্স সংগ্রহ করে। সিআইডির ক্রাইম সিন টিমের সংগৃহীত ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

সিআইডি জানায়, পালক মা আম্বিয়া খাতুনের কাছ থেকে সুমি হাসানের মোবাইল ফোন নম্বর নিয়ে তা তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সুমি জীবিত অবস্থায় গত বছরের জুন মাসের ১৮ তারিখ তিনটি নম্বরে কথা বলেছেন। তখন তাঁর লোকেশন ছিল খিলগাঁও এলাকার নাগদারপাড়া। নম্বর তিনটির রেজিস্ট্রেশন পর্যালোচনা করে তিন আসামির পরিচয় পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা সুমির সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। তাঁরা আরো জানান, সুমি ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। আসামিদের কাছে ৩০ হাজার টাকা নেই জানার পর তিনি বিষয়টি আসামি ফারুকের স্ত্রীর কাছে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। পরে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সুমিকে গত বছরের ১৮ জুন রাতে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। হত্যার পর লাশ গুম করার জন্য পরদিন সকাল ৭টার পর অপরিচিত একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে খিলক্ষেত তিন শ ফুট রাস্তার দক্ষিণে রাস্তার পাশের ঝোপের ভেতর ফেলে দেন।



সাতদিনের সেরা