kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

পাবনা গণপূর্ত কার্যালয়ে অস্ত্রের মহড়া

‘সরকারি কাজ পেতে পেশিশক্তি ব্যবহারের চূড়ান্ত প্রকাশ’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাবনা গণপূর্ত কার্যালয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে সরকারদলীয় কর্মীদের মহড়া সরকারি ঠিকাদারি ও নির্মাণ কাজে অবৈধ পেশিশক্তি ব্যবহারের নগ্ন প্রকাশ উল্লেখ করে এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

গতকাল রবিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনাকে দেশের সরকারি ক্রয় ও নির্মাণকাজে বহুদিন ধরে প্রচলিত অবৈধ বলপ্রয়োগ, ভয়-ভীতির মাধ্যমে কাজ বাগিয়ে নেওয়া এবং অস্ত্রের মুখে প্রতিযোগিতামূলক কাজ বণ্টন প্রভাবিত করার আরেকটি প্রকাশ্য উদাহরণ বলছে টিআইবি।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সরকারি ক্রয়, নির্মাণকাজ এবং প্রাতিষ্ঠানিক নানা কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতার জন্য প্রতিযোগিতামূলক যে টেন্ডারব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, সরকারদলীয় নেতাকর্মী ও স্বার্থান্বেষী মহলের অবৈধ বলপ্রয়োগ, হুমকি-ধমকি এবং জবরদখলে দীর্ঘদিন ধরেই তা অকার্যকর হয়ে আছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট নানা কর্তৃপক্ষ ছোটখাটো কিছু ব্যতিক্রম ব্যতীত বরাবরই তা অস্বীকার এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সুরক্ষা প্রদান করে আসছে। পাবনার ঘটনা সরকারি টেন্ডারপ্রক্রিয়ায় পেশিশক্তি ব্যবহারের ভয়াবহ সেই রেওয়াজের আরেকটি দৃশ্যমান নজিরমাত্র। অবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী প্রদর্শিত অস্ত্রগুলোকে নিবন্ধিত বৈধ অস্ত্র দাবি করা হলেও ড. জামান বলেন, ‘যদি অস্ত্রগুলো বৈধ হয়েও থাকে, তবু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে জনসমক্ষে এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করে ভীতি সঞ্চার করা আইনসিদ্ধ হতে পারে না। তাই এ ঘটনাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলাটা অত্যুক্তি হবে না। এ ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ‘অস্ত্র আইনের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে’—পুলিশের এমন দায়সারা আশ্বাস আমাদের স্তম্ভিত করেছে। এই আশ্বাসেই পুলিশি ব্যবস্থাগ্রহণ থমকে যাবে কি না, সেটিও আমরা নিশ্চিত নই। তাই আইনি প্রশ্নগুলোর সমাধানের পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনা বন্ধে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ত্বরিত ও কার্যকর তৎপরতার দাবি জানাই। সরকারি দলসংশ্লিষ্ট হিসেবে এই অস্ত্র মহড়ার কুশীলবরা ছাড় পেয়ে গেলে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বিষাক্ত সাপের মতো সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়বে।’

তিনি আরো বলেন, ‘অবিলম্বে এই ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি প্রতিশ্রুতি শুধু মৌখিক চটক হিসেবেই প্রমাণিত হবে এবং ইতিবাচক সব উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’



সাতদিনের সেরা