kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

পেনশন স্থগিত করায় মানবেতর জীবনযাপন শতাধিক কর্মচারীর

বিআরডিবির অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরা সংকটে

নিখিল ভদ্র   

১০ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পেনশন স্থগিত করায় মানবেতর জীবনযাপন শতাধিক কর্মচারীর

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) অবসরপ্রাপ্ত শতাধিক কর্মচারীর পেনশনসহ চিকিত্সা ও উত্সব ভাতা স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অবসর গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় থেকে এসব কর্মচারী পেনশনসহ অন্যান্য ভাতা পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে হঠাৎ তা বন্ধ হওয়ায় চরম অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগীরা। লিখিত আবেদনে তাঁরা চাকরি শেষে মাসিক পেনশনসহ অন্যান্য ভাতা পেতে কমিটির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংসদীয় কমিটির সদস্য রেবেকা মোমিন কালের কণ্ঠকে জানান, ভুক্তভোগীরা আবেদন করলেও এখনো তা নিয়ে কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়নি। আগামী বৈঠকে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

ভুক্তভোগী কর্মচারীদের অভিযোগ, রাজস্ব খাতভুক্ত কর্মচারীরা সরকারের অনুমোদনক্রমে এত দিন পেনশন সুবিধা পেয়ে আসছিলেন। গেজেটের প্রবিধানমালা ২৬-এ বলা হয়, ‘অবসরজনিত সুবিধাদিসংক্রান্ত কোনো বিষয়ে প্রবিধানমালায় পর্যাপ্ত বিধান না থাকলে উক্ত বিষয়ে সরকারি কর্মচারীগণের প্রযোজ্য বিধিমালা, আদেশ, নির্দেশ ও নিয়মাবলি অনুসরণ করা হবে।’

এ ছাড়া ২০১৮ সালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণার্থে শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীগণের অবসর গ্রহণের তারিখ হতে ১৫ বছর সময় অতিক্রান্তের পর তাঁদের পেনশন পুনঃস্থাপন করা হবে।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিআরডিবির রাজস্ব খাতভুক্ত কর্মচারী হিসেবে অবসর গ্রহণের ১৫ বছর উত্তীর্ণ হওয়ায় ওই সব কর্মচারীর মাসিক পেনশন প্রদানে প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। এই আদেশ ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়। তখন থেকে অবসরপ্রাপ্ত (অবসর গ্রহণের ১৫ বছর উত্তীর্ণ) কর্মচারীরা নিয়মিত পেনশন ও অন্যান্য ভাতা পেয়ে আসছেন। কিন্তু বিআরডিবি কর্তৃপক্ষ এক আদেশে গত জানুয়ারি থেকে পেনশন ও ভাতা স্থগিত করে।

প্রসঙ্গত, অর্থ মন্ত্রণালয়ের একই প্রজ্ঞাপনের আওতায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বিসিএসআইআর, রাজউকসহ সমপর্যায়ের সংস্থাগুলোর কর্মচারীরা নিয়মিত মাসিক পেনশন ও ভাতাদি পাচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মাজহারুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, তাঁদের সঙ্গে যাঁরা অবসর গ্রহণ করেছেন তাঁদের বয়স এখন ৭৫ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে। আবার অনেকের ৮০ বছর পেরিয়েছে। অনেকেই বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত। নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সরকারি সুবিধাবঞ্চিত হয়ে তাঁরা চরম মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। তাই তাঁরা সরকারের সুদৃষ্টি আশা করছেন।

আরেক ভুক্তভোগী এম এ করিম বলেন, এর আগে এলজিআরডি মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট সচিবের কাছে আবেদন করেও কোনো ফল পাননি। তাই বাধ্য হয়ে তাঁরা সংসদীয় স্থায়ী কমিটির শরণাপন্ন হন।