kalerkantho

রবিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৮। ২৪ অক্টোবর ২০২১। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

একের পর এক ধর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রধান বিচারপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দেশে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সামাজিক পরিস্থিতি খুব খারাপ। যেকোনো বয়সের নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। এটা ভাবিয়ে তোলার মতো, দুশ্চিন্তার মতো।’

২২ বছর আগে নেত্রকোনার মদন উপজেলায় পাঁচ বছরের একটি শিশু ধর্ষণের মামলায় একজন আসামির যাবজ্জীবন সাজা বাতিল করে মৃত্যুদণ্ড দিতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর গতকাল মঙ্গলবার শুনানিকালে এ মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে তার বিচার হওয়াটাই মুখ্য বিষয়। অপরাধ সংঘটিত হলে তার বিচার হবে না—এমন পরিস্থিতির যেন সৃষ্টি না হয়। বিচারহীনতা যাতে না থাকে।

আদালত গতকাল ওই ঘটনার রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে আসামি হুমায়ুন কবিরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন। আদালত বলেন, তাঁকে গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণের পর থেকে এই সাজা কার্যকর হবে। হাইকোর্ট ওই আসামিকে বয়স বিবেচনায় নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। 

গতকাল শুনানিকালে আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিতে আবেদন জানিয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, পাঁচ বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণ করেছে। এর চেয়ে জঘন্য অপরাধ হতে পারে না। এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমাদের সামাজিক পরিস্থিতি খুব খারাপ। যেকোনো বয়সের নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হচ্ছে।’ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সমাজে ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে গেছে। সাজা হ্রাস করার বিষয়টি নিয়ে এখন নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

আদালত বলেন, ‘এই আসামি দোষী। এটা নিয়ে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই। শুধু সাজা আরোপ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বয়স কম হলে এবং আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকলে সে ক্ষেত্রে সাজা কমানোর বিষয়ে আপিল বিভাগের বেশ কিছু রায় রয়েছে।’

জানা যায়, নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১৯৯৯ সালের ৫ জুলাই ওই শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হুমায়ুন কবির নামের ২৪ থেকে ২৫ বছরের এক যুবককে আসামি করে মামলা হয়। এ মামলায় নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পলাতক আসামি হুমায়ুন কবিরকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এই মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয়।



সাতদিনের সেরা