kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ভাড়াটিয়া সেজে ডাকাতি করতেই বৃদ্ধাকে খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার ঝাউচরে একটি বাড়িতে কৌশলে বাসা ভাড়া নিয়ে বৃদ্ধাকে নেশাজাতীয় ওষুধ খাইয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে একটি চক্র। পরে তারা টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। ওই বৃদ্ধার বাড়ির সেই ভাড়াটিয়া দম্পতিসহ চারজনকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানায় অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল সোমবার ঢাকায় সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি (ঢাকা ও ময়মনসিংহ) ইমাম হোসেন বলেন, গত ৮ মে সোনারগাঁ থানার ঝাউচর এলাকার একটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পরদিন অচেতন অবস্থায় বাড়ির মালিক আজিম উদ্দিন (৭০) ও তাঁর স্ত্রী হোসনে আরা বেগমকে (৬৪) উদ্ধার করা হয়। হোসনে আরা বেগম হাত-পা বাঁধা ও মুখে স্কচটেপ পেঁচানো অবস্থায় ছিলেন। দুজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর আজিম উদ্দিনের জ্ঞান ফিরলেও হোসনে আরা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় আজিম উদ্দিনের ছেলে আল আমিন একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে সিআইডি। ঘটনার পর ওই বাড়ির এক ভাড়াটিয়া দম্পতিকে পাওয়া যাচ্ছিল না। তাঁরা হলেন হারুন অর রশীদ ও তাঁর স্ত্রী সুলতানা খাতুন। তাঁরা পালিয়ে রংপুরের মিঠাপুকুরে চলে যান। গত ১২ মে গাজীপুর থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পরে তাঁরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ইমাম হোসেন আরো বলেন, জবানবন্দিতে হারুন অর রশীদ ও সুলতানা খাতুন দম্পতি স্বীকার করেছেন যে তাঁরা একটি ডাকাতচক্রের হয়ে নারায়ণগঞ্জের ওই বৃদ্ধার বাড়িটি ভাড়া নেন। এর মূল হোতা শিপন ও সুমন, যাঁরা ওই বাড়ি আগে রেকি করেছিলেন। তাঁরা নিজেরাই ভাড়া নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আজিম উদ্দিন তাঁদের ভাড়া দেননি। এরপর ওই দম্পতিকে নিয়ে আসেন তাঁরা। হত্যাকাণ্ডের চার মাস আগে আজিম উদ্দিনের বাড়ি ভাড়া নেন হারুন ও সুলতানা। আজিম উদ্দিনকে প্রায়ই চা খাওয়াতেন হারুনের স্ত্রী সুলতানা। আজিম উদ্দিনও তাঁদের কাছে যেতেন। তবে আজিম উদ্দিনের স্ত্রী কখনো যেতেন না।

গত ৭ মে রাতে আজিম উদ্দিনকে চায়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান হারুনের স্ত্রী সুলতানা। তবে তিনি অচেতন না হওয়ায় ওই রাতে ডাকাতি করা সম্ভব হয়নি। পরদিন ফের চা খাওয়ান তাঁকে। এরপর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। রাতে ডাকাতচক্রের মূল হোতা শিপন ও সুমন ওই বাড়িতে যান। ঘরে ঢুকে বৃদ্ধার হাত-পা বেঁধে ফেলেন আর মুখ গামছা দিয়ে বাঁধেন।



সাতদিনের সেরা