kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

রাজশাহীর গুটি আম বাজারে

জাতের আম পেতে আরো অপেক্ষা

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

১৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজশাহীর গুটি আম বাজারে

১৫ মে থেকে রাজশাহীতে গুটি আম পাড়া শুরু হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২০ মে বৃহস্পতিবার থেকে জাতের আম হিসেবে পরিচিত গোপালভোগ পাড়া শুরু হবে। এরপর লক্ষ্মণভোগ, হিমসাগরসহ অন্যান্য জাতের আম বাজারে আসবে পর্যায়ক্রমে।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী, গত শনিবার থেকে গুটি বা আঁটি জাতের আম পাড়া শুরু হয়। এই আম বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই টক বা আঁশ জাতের হয়ে থাকে। ফলে বাজারে এ জাতের আমের তেমন চাহিদা থাকে না। আর সেই সুযোগে আমগুলোর বেশির ভাগই অল্প মূল্যে কিনে নেন বিভিন্ন কম্পানির লোকজন। তাঁরা জুস বা আচার করতে আমগুলো কিনে নিচ্ছেন এবারও।

এবার শুরুতেই গুটি জাতের আম বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা মণ দরে। তবে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে বাজারে আসার অপেক্ষায় থাকা গোপালভোগের চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। এটি সারা দেশের আমপ্রিয় মানুষের মধ্যে একটি বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে। ফলে এ আমের দামটাও গুটি জাতের চেয়ে এক লাফে বেড়ে যায়। এবারও আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, শুরুতেই রাজশাহীর বাজার বা বাগান থেকে গোপালভোগ জাতের আম বিক্রি হবে অন্তত এক হাজার ৫০০ টাকা দরে। এরপর দেশের সার্বিক পরিস্থিতির আর কোনো বড় ধরনের অবনতি না হলে গোপালভোগের দাম ধীরে ধীরে বাড়তে থাকবে। যদিও বৃহস্পতিবারের মধ্যে গোপালভোগ পুরোপুরি পোক্ত হবে না। পুরনো বা বয়স্ক গাছের আমগুলো এই সময়ের মধ্যে পোক্ত হবে। তবে নতুন বা অল্প বয়সের গাছগুলোতে গোপালভোগ আম আরো দেরিতে পোক্ত হবে। জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী আগামী ২৫ মে বাজারে আসবে লক্ষ্মণভোগ আম। এরপর ২৮ মে আসবে ক্ষীরশাপাতি বা হিমসাগর জাতের আম।

তবে রাজশাহীর আম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার নির্ধারিত সময় আগে হলেও চলতি মাসের শেষ দিকে গোপালভোগ এবং আগামী মাসের প্রথম দিকে লক্ষ্মণভোগ ও ক্ষীরশাপাতি বা হিমসাগর জাতের যে আমগুলো বাজারে আসবে, সেগুলো বেশি ভালো হবে।

রাজশাহীতে এবার আম চাষ করা হয়েছে ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে। এখান থেকে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ১৪ হাজার ৪৮৩ মেট্রিক টন। তবে এবার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সেটি ছাড়িয়ে যাবে বলেই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আম চাষি ও বিশেষজ্ঞরা। যদিও এবার খরার কারণে প্রচুর আম গাছ থেকে ঝরে পড়েছে। এরপর রয়েছে কালবৈশাখী ঝড়ের ভয়। তবে এবার খরায় আম নষ্ট হলেও এখনো রাজশাহী অঞ্চলে সেই হারে ঝড়ের দাপট দেখা যায়নি। 

পুঠিয়ার বেলপুকুর এলাকার আকবর আলী বলেন, ‘এবারও গতবারের মতো আমের ভালো দাম পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। গাছে গাছে এখন পর্যন্ত যে আম আছে, তাতে ভালো দাম পাওয়া গেলে চাষি ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন। কিন্তু প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ এই সময়ে হলে আমের ক্ষতি হবে অনেক।’

এদিকে রাজশাহীর বাজারে কয়েক দিন ধরে গুটি জাতের পাকা আম বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে। গোপালভোগ নামতে শুরু করলে আমের দাম আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন বাজারের আম ব্যবসায়ী খাদেমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এখন জাতের আম বাজারে তেমন নাই। জাতের আম গোপালভোগসহ অন্যগুলো নামতে শুরু করলে দামও বাড়তে শুরু করবে।’

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আব্দুল আলীম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হেক্টরপ্রতি গড়ে ১৫.৫৮ মেট্রিক টন হারে আম উৎপাদন হবে বলে এবারও আশা করা হচ্ছে। সেই হিসাবে এবার আমের উৎপাদন গতবারের চেয়ে অনেক বেশি হবে বলেই আমরা আশা করছি।’



সাতদিনের সেরা