kalerkantho

রবিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৮। ২৪ অক্টোবর ২০২১। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ডিমান্ড নোটের টাকা

সাত দিনেও প্রতিবেদন দিতে পারেনি তিতাসের কমিটি

সজীব আহমেদ   

১১ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবাসিকে নতুন গ্যাস সংযোগের জন্য রাজধানীর ৫৬ হাজার আবেদনকারীর ডিমান্ড নোটের (অগ্রিম) টাকা ফেরত দিতে তিতাস কর্তৃপক্ষ গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০১৯ সালের মে মাসে সরকার নতুন সংযোগ বন্ধ ঘোষণা করলে আবেদনকারীদের কয়েক কোটি টাকা আটকা পড়ে। এ পরিস্থিতিতে গত বছরের ডিসেম্বরে ডিমান্ড নোটের টাকা আবেদনকারীদের কাছে ফেরত দিতে তিতাসকে নির্দেশ দেয় জ্বালানি বিভাগ। এর চার মাস পর অর্থ ফেরত দিতে গত ২ মে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে তিতাস। টাকা দ্রুত ফেরতের প্রক্রিয়া জানাতে ওই কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। গত রবিবার এই সময়সীমা শেষ হলেও প্রতিবেদন জমা পড়েনি।

কমিটির আহ্বায়ক তিতাসের ভিজিল্যান্স শাখার মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা কাজ শেষ করতে পারিনি। আরো বেশ কিছুদিন লাগতে পারে। ঈদের পর ১৮ তারিখ পর্যন্ত আমার ছুটি, এরপর রিপোর্ট জমা দেব। রিপোর্ট তৈরি করার পর কমিটির সবাই মতামত দিলে তারপর জমা দিতে পারব।’

এই কমিটিকে ডিমান্ড নোটের টাকা ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে কী কী সমস্যা আছে তা চিহ্নিতকরণ এবং গ্রাহকের টাকা কোন প্রক্রিয়ায় ফেরত দেওয়া যাবে—এসব বিষয়ে সুপারিশ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এসব বিষয়ে মতামত দিতে কমিটিকে সাত কর্মদিবস বেঁধে দেওয়া হয়।

তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলী ইকবাল মো. নুরুল্লাহ বলেন, ‘আমরা গ্রাহকদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছি। কিভাবে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এই টাকা গ্রাহকদের দ্রুত দেওয়া যায়, কমিটি এ বিষয়ে কাজ করছে। এটি অনেক পুরনো ঘটনা। তাই গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে হলে সঠিক গ্রাহক চিহ্নিত করার বিষয়টিও আছে। তাই চাইলেই গ্রাহকের টাকা দ্রুত ফেরত দিতে পারছি না।’

তিতাসের এমডি গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কমিটির রিপোর্ট এখনো হাতে পাইনি। আশা করি, ঈদের পর প্রতিবেদন পাব। কমিটির রিপোর্ট পেলে তারপর কাজ শুরু করব।’

তিতাস সূত্র জানিয়েছে, নতুন আবাসিক গ্যাস সংযোগের জন্য তিতাসের কাছে প্রায় ৫৬ হাজার আবেদনের ডিমান্ড নোটের টাকা জমা আছে। গ্রাহকপ্রতি তিন-চার হাজার টাকা পর্যন্ত জমা রয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে জ্বালানি বিভাগ এক আদেশে তিতাসকে দুটি বিষয়ে নির্দেশনা দেয়। প্রথমটি হলো, যারা ডিমান্ড নোট পেয়ে টাকা জমা দেয়নি, তাদের আবেদন বাতিল করা। দ্বিতীয়ত, যারা টাকা জমা দিয়েছে, দ্রুত পরিকল্পনা গ্রহণ করে তাদের সে টাকা ফেরত দেওয়া। প্রথমটি বাস্তবায়ন করলেও দ্বিতীয় নির্দেশনা এখনো বাস্তবায়ন করতে পারেনি তিতাস কর্তৃপক্ষ।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে নতুন করে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই। তাই যারা ডিমান্ড নোটের (অগ্রিম) টাকা জমা দিয়েছিল তাদের টাকা দ্রুত ফেরত দেওয়ার জন্য গত ডিসেম্বরেই তিতাসকে ঠিঠি দেওয়া হয়। জ্বালানি বিভাগ থেকে ডিমান্ড নোটের টাকা অনলাইনে বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দিতে বলা হয়েছিল।



সাতদিনের সেরা