kalerkantho

বুধবার । ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৮ জুলাই ২০২১। ১৭ জিলহজ ১৪৪২

করোনাকালেও থেমে নেই মাদক কারবার

তেলের লরি, অ্যাম্বুল্যান্সে আসছে ইয়াবা-ফেনসিডিলের চালান

এস এম আজাদ   

১১ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশব্যাপী কঠোর বিধি-নিষেধের মধ্যেও থেমে নেই মাদক কারবার। কারবারিরা জরুরি পণ্য পরিবহনের ট্রাক ও অ্যাম্বুল্যান্সে সীমান্ত এলাকা থেকে ঢাকায় নিয়ে আসছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকের চালান। পুলিশ, র‌্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানে প্রতিদিনই নতুন কৌশলে মাদক পাচার ধরা পড়ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঈদ মৌসুম এবং করোনাকালের কিছুটা শিথিলতার সুযোগ নিয়ে ভিন্ন কৌশলে মাদক পাচার অব্যাহত আছে। এদিকে শীর্ষ মাদক কারবারি ও মাদক কারবারে বিনিয়োগকারীদের তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। ঈদের পর তালিকা চূড়ান্ত করে ফের বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এরই মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২০৭ জন বিনিয়োগকারী এবং তিন হাজার ২৮১ জন কারবারিকে চিহ্নিত করেছে ডিএনসি।

গত শনিবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর গোলাপবাগ এলাকা থেকে একটি তেলের লরি আটক করে ১০ হাজার ৩০৬ পিস ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১০। তেলের ট্যাংকারে লুকানো ছিল এসব ইয়াবা। গত রবিবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুর ও রায়েরবাগে দুটি ট্রাক আটক করে ৫৫৯ বোতল ফেনসিডিলসহ পাঁচ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১০। অপারেশন অফিসার এএসপি শাহীনুর চৌধুরী জানান, গ্রেপ্তাররা বিভিন্ন পণ্যের আড়ালে ফেনসিডিল এনে বিক্রি করছিল।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওয়ারী বিভাগ গত শনিবার রাতে রমনা থানার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেইন গেটের সামনে থেকে ২৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ একটি অ্যাম্বুল্যান্স আটক করে। ডিবির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) আজহারুল ইসলাম মুকুল বলেন, মাদক কারবারিরা প্রশাসনের চোখে ধুলা দিতে কৌশলে অ্যাম্বুল্যান্সে লুকিয়ে যশোর থেকে ফেনসিডিল নিয়ে আসছে। রাস্তায় কড়াকড়ি থাকলেও অ্যাম্বুল্যান্সে রোগী দেখলে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই সুযোগ নিয়েছে তারা। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত ২২ এপ্রিল মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের সামনে চেকপোস্টে ৩২০ গ্রাম হেরোইনসহ সৌমিক আহম্মেদ সিদ্দিকি নামের এক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। করোনা পরিস্থিতিতে মাস্ক ও স্যানিটাইজারের ব্যাপক চাহিদা থাকায় মাস্ক/স্যানিটাইজার সাপ্লাইয়ের মুভমেন্ট পাস নিয়ে সৌমিক সীমান্ত থেকে হেরোইনের চালান নিয়ে আসে। অন্যদিকে বসিলায় অভিযান চালিয়ে ৭৭ হাজার ইয়াবাসহ পাঁচ কারবারিকেও গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

ঢাকা মহানগর পুলিশের সূত্র জানায়, গত এক মাসে তিন মণেরও বেশি গাঁজা জব্দ করা হয়েছে। বিভিন্ন পরিবহনে কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকা থেকে সবজির আড়ালে গাঁজা নিয়ে আসছে কারবারিরা।

জানতে চাইলে ডিএনসির ঢাকা মেট্রোর উপপরিচালক (দক্ষিণ) মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘চলমান বিধি-নিষেধের মধ্যেও আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। ৭ মে এক রোহিঙ্গাকে এক হাজার পিস ইয়াবাসহ ধরা হয়েছে। প্রতিদিনই ছোট ছোট চালান ধরা পড়ছে। পথে কড়াকড়ির কারণে এখন বড় চালান আনছে না কারবারিরা। ছোট ছোট চালান আসছে। বেশি আসছে গাঁজা।’