kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ কার্তিক ১৪২৮। ২৬ অক্টোবর ২০২১। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

পথশিশুদের সংকট বাড়িয়েছে মহামারি

নিখিল ভদ্র   

১১ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পথশিশুদের সংকট বাড়িয়েছে মহামারি

করোনা মহামারির কারণে নতুন করে এমনিতেই নানা সংকটে পড়েছে পথশিশুরা। শুধু সংক্রমণের ঝুঁকিই নয়, বেশির ভাগ দোকানপাট, অফিস-আদালত বন্ধ থাকায় কাজের সুযোগও কমে গেছে তাদের। সব মিলিয়ে মানবেতর থেকে আরো মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে তাদের। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হতাশা বাড়ছে পথশিশুদের। আর এই হতাশা থেকে মাদকাসক্ত হওয়ার পাশাপাশি নানা অপরাধে জড়াচ্ছে তারা।

বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশে পথশিশুর সংখ্যা তিন থেকে চার লাখ। এদের বেশির ভাগই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। ন্যূনতম শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি কিছুই মেলে না তাদের ভাগ্যে। খোলা আকাশ, পার্ক, ফুটপাত, রেলস্টেশন, হাসপাতাল, আদালত চত্বর, ফেরিঘাট, শহীদ মিনার, বিশ্ববিদ্যালয়, লঞ্চ টার্মিনাল ও বাস টার্মিনালে তাদের বাস। ছোটখাটো কাজ করে সামান্য আয়ের মাধ্যমে জীবন কাটালেও মহামারিতে তা এক রকম অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পথশিশুরা পেটের ক্ষুধা মেটাতে সাধারণত হকারি, রিকশা চালানো, ফুল বিক্রি, আবর্জনা সংগ্রহ কিংবা হোটেল শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। কুলি, বিড়ি শ্রমিক ও ঝালাই কারখানার মতো ঝুঁকিপূর্ণ খাতেও কাজ করতে হয় তাদের।

সোশ্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক এনহান্সমেন্ট প্রগ্রামের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পথশিশুদের প্রায় ৪৪ শতাংশ মাদকাসক্ত। ৪১ শতাংশ শিশুর ঘুমানোর কোনো বিছানা নেই। ৪০ শতাংশ গোসল করতে পারে না। ৩৫ শতাংশ খোলা জায়গায় মলত্যাগ করে। ৫৪ শতাংশ অসুস্থ হলে দেখার কেউ নেই এবং ৭৫ শতাংশ শিশু অসুস্থ হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারে না। করোনা পরিস্থিতি পথশিশুদের এই সংকট আরো বাড়িয়েছে। আর করোনা সম্পর্কে কোনো ধারণা না থাকায় তারা চরম ঝুঁকির মধ্যে আছে।

একই ধারণা দিয়েছে পথশিশুদের নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোর নেটওয়ার্ক ‘স্ট্রিট চিলড্রেন এক্টিভিস্টস নেটওয়ার্ক’ (স্ক্যান)। মহামারি শুরুর পর এক জরিপ চালিয়ে স্ক্যান জানায়, পথশিশুদের কেউই মাস্ক ব্যবহার করে না। তারা মনে করে, করোনা ধনীদের রোগ, এটা গরিবদের হয় না। করোনা আক্রান্ত হওয়াকে সাধারণ সর্দি-কাশি-জ্বর হিসেবেই দেখে তারা।

স্ক্যান সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান মুকুল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মহামারিতে পথশিশুদের সুরক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। এই মুহূর্তে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে পথশিশুদের উদ্ধার করে সমাজসেবার অধীন পরিচালিত হোমগুলোতে আশ্রয় দেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া সরকারের পথশিশু পুনর্বাসন কার্যক্রম কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত সেন্টার এবং বিভিন্ন এনজিও পরিচালিত সেন্টার বা হোমগুলোতে রাখা যেতে পারে।’ উদ্ধারের পর তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত, আশ্রয়স্থলে খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সব উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

পথশিশুদের নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলে জানান শিশু অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাসের সভাপতি ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিশুদের সুরক্ষায় বঙ্গবন্ধু বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁর ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুবান্ধব আইন-নীতিমালা সংশোধন ও পরিমার্জন করেছেন। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে পথশিশুদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শুধু করোনা পরিস্থিতি নয়, সব সময়ই পথশিশুদের সুরক্ষায় সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম জরুরি।’



সাতদিনের সেরা